Porimoni suffered from Alopecia Areata: আচমকাই গোছা গোছা চুল ঝরতে শুরু! মাথার অর্ধেক অংশ প্রায় ফাঁকা—যে রোগে ভুগেছিলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী পরীমনি

বাংলাদেশি অভিনেত্রী পরীমনি আক্রান্ত হয়েছিলেন অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটায়। কী এই রোগ, কেন আচমকা চুল পড়ে মাথা ফাঁকা হয় এবং চিকিৎসায় কতটা সেরে ওঠা সম্ভব—জানুন বিস্তারিত।

চুল পড়া আজকাল সাধারণ সমস্যা হলেও, যখন হঠাৎ নির্দিষ্ট অংশ থেকে গোছা গোছা চুল উঠে যেতে থাকে, তখন তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী পরীমনি। করোনাকালে আচমকাই মাথার বড় অংশ ফাঁকা হয়ে যেতে শুরু করে তাঁর। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রায় এক থেকে দেড় বছরে ধীরে ধীরে সুস্থ হন অভিনেত্রী।

আচমকা চুল পড়ে মাথা ফাঁকা—পরীমনির অভিজ্ঞতা

পরীমনি নিজেই জানিয়েছিলেন, প্রতিদিনের মতো সামান্য চুল পড়া নয়—বরং আচমকাই গোছা গোছা চুল উঠে যেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাথার প্রায় অর্ধেক অংশে চুল প্রায় থাকেনি বললেই চলে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

চুল পড়ার সাধারণ কারণ কয়টি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি বড় কারণে চুল পড়ে—

জিনগত কারণ: সাধারণত ৩০ বছরের পর শুরু হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে টাক পড়ার ঝুঁকি বেশি। এই ধরনের চুল পড়ায় নতুন করে চুল গজানোর সম্ভাবনা কম।

পুষ্টিহীনতা বা শারীরিক অসুস্থতা: রক্তশূন্যতা, জ্বর বা অপুষ্টির কারণে পুরো মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়। কারণ দূর হলে চুল আবার ফিরে আসে।

রোগজনিত কারণ: নির্দিষ্ট অংশে গোছা গোছা চুল পড়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়—এই ক্ষেত্রে চিকিৎসা জরুরি।

অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা কী?

অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা একটি অটোইমিউন রোগ। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজেরই চুলের ফলিকলকে আক্রমণ করে। ফলে হঠাৎ করেই চুল ঝরে পড়ে এবং নির্দিষ্ট অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। অনেকেই একে ভুল করে ‘টাক পোকা’ বলেন, কিন্তু এর সঙ্গে কোনও পোকা বা জীবাণুর সম্পর্ক নেই।

ছত্রাক সংক্রমণ না অ্যালোপেসিয়া—ফারাক বুঝবেন কীভাবে?

দু’ক্ষেত্রেই গোছা গোছা চুল পড়ে, তবে পার্থক্য আছে—

ছত্রাক সংক্রমণ: চুল পড়লেও কিছু চুল থেকে যায়, চুলকানি থাকে, ছোঁয়াচে হতে পারে।

অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা: নির্দিষ্ট জায়গা একেবারে মসৃণ ও ফাঁকা হয়ে যায়, চুলকানি থাকে না, ছোঁয়াচে নয়।

চিকিৎসায় কি পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব?

হ্যাঁ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। স্টেরয়েড থেরাপি, ইনজেকশন বা বিশেষ ওষুধে ধীরে ধীরে আবার চুল গজাতে শুরু করে। পরীমনির ক্ষেত্রেও প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছিল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে।

করোনাকালে হঠাৎ করেই মারাত্মক চুল পড়ার সমস্যায় ভুগেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি। মাথার নির্দিষ্ট অংশে গোছা গোছা চুল পড়ে প্রায় অর্ধেক মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। পরে জানা যায়, তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা নামের এক অটোইমিউন রোগে। কী এই রোগ, কেন হয় এবং আদৌ কি সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব—রইল বিস্তারিত।

Leave a comment