বাংলাদেশে সংস্কৃতি ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান ঘিরে ফের অশনি সংকেত। শুক্রবার রাতে ফরিদপুরে রক তারকা জেমস ও তাঁর ব্যান্ডের কনসার্টে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়া হয়। ঘটনায় বহু দর্শক ও আয়োজক আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কী উপলক্ষে আয়োজন, কোথায় হামলা
ফরিদপুর জেলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল এই রক কনসার্ট। অনুষ্ঠানস্থল ছিল ফরিদপুর জেলা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের দাবি, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকাই গোলমাল শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বহিরাগতদের প্রবেশ ঘিরেই অশান্তি
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়াদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কয়েক হাজার বহিরাগত সেখানে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যদিও দর্শকদের কথা মাথায় রেখে বাইরে দুটি বড় প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইট-পাথর ছোড়া, আহত ২৫–৩০ জন
প্রবেশে বাধা পেয়ে একাংশ দর্শক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয়। বাধা দেওয়া হলে শুরু হয় ইট-পাথর ছোড়া। এই হামলায় ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজক মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে বন্ধ করে দিতে হয় অনুষ্ঠান।
অক্ষত জেমস, দ্রুত বেরিয়ে যান শিল্পীরা
হামলার সময় রক তারকা জেমস ও তাঁর ব্যান্ড মঞ্চে ছিলেন। তবে নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতায় তাঁরা কোনওরকম শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
কট্টরপন্থীদের যোগ? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
যদিও আয়োজকদের দাবি, হামলাকারীরা বহিরাগত, তবে ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ওই ভিডিওতে এক বাংলাদেশি যুবক দাবি করেছেন, হামলাকারীরা চাইছে না দেশে কোনও সঙ্গীতানুষ্ঠান হোক। কট্টরপন্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর নিয়ে।
বাংলাদেশের ফরিদপুরে রক তারকা জেমসের কনসার্টে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। বহিরাগতদের হামলায় ইট-পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন ২৫–৩০ জন। নিরাপত্তার অভাবে মাঝপথেই বন্ধ করতে হয় অনুষ্ঠান।













