একদিন আগেও যেখানে টোল না দিলে রাস্তা পার হওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল, সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। বীরভূমের দুবরাজপুরে আচমকাই বন্ধ হয়ে গেল ২০ বছরের পুরনো টোল আদায়। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে যেমন খুশি গাড়ির চালক ও মালিকরা, তেমনই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন।
আচমকা স্তব্ধ পাঁচ টোল বুথ
দুবরাজপুর পৌরসভা এলাকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ—পাওয়ার হাউস মোড়, পাহাড়েশ্বর গোশালা, আশ্রম মোড়, খয়রাশোল রাস্তা এবং হেতমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন টোল বুথ—সবকটিই এখন কার্যত বন্ধ। সকাল পর্যন্ত যেখানে টোল আদায় চলছিল, দুপুরের পর থেকেই বুথগুলি ফাঁকা হয়ে যায়।
চালকদের মুখে স্বস্তির হাসি
দীর্ঘদিন ধরে এই টোল নিয়ে ক্ষোভ ছিল স্থানীয় গাড়িচালকদের একাংশের মধ্যে। হঠাৎ টোল আদায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই খুশি। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, “টোল দিতে এসেছিলাম, কিন্তু নেওয়ার লোকই নেই!”
রাজনৈতিক আবহে বাড়ছে বিতর্ক
সরকার বদলের আবহে টোল বন্ধ হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব প্রশ্ন তুলেছে, যদি টোল আদায় পুরোপুরি বৈধ হয়, তাহলে হঠাৎ কেন তা বন্ধ করা হল? পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পৌরসভার টোল বুথ বসানো নিয়েও উঠেছে আইনি প্রশ্ন।
‘অবৈধ আদায়’ অভিযোগ বিরোধীদের
বিরোধী শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এতদিন ধরে চলা এই টোল ব্যবস্থার প্রকৃত বৈধতা কী ছিল? এই নিয়েই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দুবরাজপুর জুড়ে।
পৌরসভার দাবি, সাময়িক বন্ধ
দুবরাজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পাণ্ডে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৭ সাল থেকেই বৈধভাবেই এই টোল আদায় চলছে। পুলিশের বিশেষ অনুরোধে আপাতত দু’দিনের জন্য আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থায়ী মুক্তি নাকি সাময়িক বিরতি?
দীর্ঘ ২০ বছরের অভ্যাসে হঠাৎ ছেদ পড়ায় এখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—এই টোল বন্ধ কি স্থায়ী? নাকি কয়েকদিন পর ফের সক্রিয় হবে বুথগুলি? আপাতত সেই উত্তর সময়ই দেবে।
বীরভূমের দুবরাজপুরে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা টোল ট্যাক্স আদায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলায় তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। পাঁচটি টোল বুথে ঝাঁপ পড়তেই স্বস্তিতে গাড়ির মালিকরা। তবে টোলের বৈধতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।











