ডিউকস বল বিতর্কে নড়েচড়ে বসল প্রস্তুতকারক সংস্থা

ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টে ডিউকস বল নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষানিরীক্ষায় নামছে প্রস্তুতকারক সংস্থা। শুবমান গিল ও বেন স্টোকস প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ।

ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজে বল নিয়ে একের পর এক অভিযোগে এবার পরীক্ষার পথে প্রস্তুতকারক সংস্থা, বিবৃতি দিলেন কর্ণধার দিলীপ জাজোড়িয়া।ভারত বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির প্রথম তিন টেস্টেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ডিউকস বল। কখনও মাত্র ১০ ওভার পরই বলের আকার বিকৃত হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও নতুন বল নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নরম হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। ফলত, একাধিকবার বল পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন আম্পায়াররা। বারবার বল পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে দেখা গিয়েছে শুবমান গিল, বেন স্টোকসদের মতো তারকাদের।

টানা অভিযোগে প্রস্তুতকারক সংস্থার জবাব, বল পরীক্ষায় সম্মতি

ডিউকস বল নিয়ে এত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকাশ্যে এল ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের অবস্থান, সংস্থার তরফে জানানো হল বল পরীক্ষা করা হবে।শেষমেশ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিবৃতি দিলেন ডিউকস বল প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্ণধার দিলীপ জাজোড়িয়া। তিনি জানিয়েছেন, তিন টেস্টে ব্যবহৃত ডিউকস বলগুলো ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের তরফে সংরক্ষণ করে তাঁদের পাঠানো হচ্ছে। সেই বলগুলির উপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হবে। সঙ্গে যোগ করা হবে যাঁরা এই বলের কাঁচামাল সরবরাহ করেছেন, তাঁদের মতামত ও বিশ্লেষণও।

সমস্যার শিকড় খুঁজবে সংস্থা, বদল সম্ভব ভবিষ্যতে

সংস্থার কর্ণধারের বক্তব্য, তদন্তে খামতি মিললে বদল করা হবে বলের কাঠামোয় বা উপকরণে।দিলীপ জাজোড়িয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা এই বলগুলি নিয়ে পরীক্ষা করব। যারা বল বানানোর কাঁচামাল সরবরাহ করেছে, তাঁদের সঙ্গেও বসব। যদি তদন্তে দেখা যায় বল তৈরিতে কোথাও ত্রুটি হয়েছে কিংবা নতুন রিং ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। আমরা চাই, বল নিয়ে আর কোনও খেলোয়াড় বা দল যেন অসন্তুষ্ট না হন।

ম্যাচ চলাকালীন বল বিকৃতি, ক্ষুব্ধ শুবমান-ঋষভ

তৃতীয় টেস্টেই দুটি বল পরিবর্তন, বলের গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ শুবমান গিল ও ঋষভ পন্থের।তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই দু’বার বল পাল্টাতে হয়েছে আম্পায়ারদের। প্রথমে ১০ ওভারের মাথায় এবং পরে ৪৮তম ওভারে। শুবমান গিল বলেন, “খুব দ্রুত বলের আকার পাল্টে যাচ্ছে, এমনটা আগে কখনও দেখিনি।” উপরন্তু, ভাইস ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থের মন্তব্য, এইভাবে বারবার বল বদলানো খেলোয়াড়দের মনোসংযোগ নষ্ট করে দিচ্ছে।

স্টোকসের সন্দেহ, ‘ডিউকস বলেই রিং ঠিক কি না তা খতিয়ে দেখা হোক’

ইংল্যান্ড অধিনায়ক বললেন, সফরকারী দলের অভিযোগ বারবার কেন উঠছে, তা নিয়ে ভাবা উচিত।এই ঘটনার পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসও বল বিতর্কে মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরা প্রতিটি সিরিজে সফরকারী দলের পক্ষ থেকে বল নিয়ে অভিযোগ শুনি। আমার সন্দেহ হচ্ছে, যে রিং দিয়ে বল তৈরি হয়েছে তা আদৌ ডিউকস সংস্থার নির্দিষ্ট রিং কি না। বোলাররা ভীষণ সমস্যায় পড়ছে। এতে খেলার গতি ও মান দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Leave a comment