দমদম স্টেশনে বুলডোজার অভিযান, বদলে গেল চেনা ছবি! হকার উচ্ছেদের পর যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দমদম জংশন স্টেশনে রেলের বুলডোজার অভিযানের পর উচ্ছেদ হল একাধিক হকারের দোকান। স্টেশন পরিষ্কার হলেও পুনর্বাসন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জানুন যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া।

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন দমদম জংশনে রাতারাতি বদলে গেল চেনা পরিবেশ। গভীর রাতে রেলের বুলডোজার অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একাধিক দোকান। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যেমন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই নিত্যযাত্রীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে, আবার কেউ মনে করছেন বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মানবিক নয়।

রাতের অভিযানে উধাও বহু বছরের পরিচিত দোকানপাট

শনিবার গভীর রাতে দমদম জংশন স্টেশন চত্বরে শুরু হয় রেলের উচ্ছেদ অভিযান। অভিযোগ, রেলের জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একাধিক দোকান ও হকার স্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। রাতের অন্ধকারেই অভিযান চালানো হওয়ায় ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্টেশন চত্বরে মিলল বাড়তি জায়গা, খুশি একাংশ যাত্রী

উচ্ছেদের পর স্টেশন এলাকায় তৈরি হয়েছে অনেক বেশি খোলা পরিসর। নিত্যযাত্রীদের একাংশের মতে, এতদিন স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ অত্যন্ত ঘিঞ্জি ছিল। দোকান ও অস্থায়ী স্টলের কারণে যাতায়াতে সমস্যাও হতো। এখন যাত্রীদের চলাচল অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।অনেক যাত্রীর দাবি, ব্যস্ত সময়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে এবং স্টেশন চত্বর আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

হকারদের ক্ষোভ, পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের অভিযোগ

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের অভিযোগ, বিকল্প পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই তাঁদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বহু পরিবার বছরের পর বছর এই দোকানের আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে হঠাৎ উচ্ছেদের ঘটনায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।বাম নেতৃত্বও হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের দাবি তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, জীবিকা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা না করে শুধুমাত্র উচ্ছেদ চালানো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

নোটিসের দাবি রেলের, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

রেল সূত্রের দাবি, উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। রেলের মতে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিষয়টি নিয়ে সরব হন।

যাত্রীদের মতামতে দ্বিধাবিভক্ত ছবি

দমদম স্টেশন চত্বরে এখন দেখা যাচ্ছে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া। একদল যাত্রী মনে করছেন, উচ্ছেদের ফলে স্টেশন অনেক বেশি পরিষ্কার ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অন্যদিকে আরেক দল যাত্রী বলছেন, অবৈধ দখল সরানো প্রয়োজন হলেও জীবিকা হারানো মানুষদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।ফলে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে জনমত এখনও বিভক্ত। একদিকে যাত্রী সুবিধার প্রশ্ন, অন্যদিকে জীবিকা ও মানবিকতার বিষয়—দুইয়ের টানাপোড়েনেই এখন সরগরম দমদম স্টেশন চত্বর।

দমদম জংশন স্টেশন চত্বরে রেলের উচ্ছেদ অভিযানের পর সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বহু বছরের পরিচিত দৃশ্য। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একাধিক দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর স্টেশন এলাকা অনেকটাই ফাঁকা ও পরিষ্কার হয়েছে বলে মত বহু যাত্রীর। তবে জীবিকা হারানো হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের দাবিও উঠেছে জোরালোভাবে।

Leave a comment