Durga Puja 2026: মহাভারত থেকে ১৬০০ বর্গফুটের অন্নপূর্ণার হাঁড়ি! সল্টলেক-নিউটাউনের এই ৫ পুজোয় থাকছে নজরকাড়া থিম

দুর্গাপুজো ২০২৬-এ সল্টলেক ও নিউটাউনে মহাভারত, গ্রামোফোন, ১৬০০ বর্গফুটের অন্নপূর্ণার হাঁড়ি, লোকশিল্প ও পদ্মের থিমে সাজছে ৫ মণ্ডপ।

দুর্গাপুজো মানেই নতুন থিম, শিল্পের অভিনব প্রকাশ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধন। ২০২৬ সালে সেই চেনা উৎসবেই বৈচিত্র্যের নতুন রং যোগ করতে প্রস্তুত সল্টলেক, বিধাননগর ও নিউটাউনের একাধিক পুজো কমিটি। ৫০তম বর্ষে পা রাখা ইসি ব্লকের মহাভারত-নির্ভর থিম থেকে শুরু করে এ কে ব্লকের প্রায় ১৬০০ বর্গফুটের বিশাল হাঁড়ির আদলে মণ্ডপ—এবার দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে পাঁচটি আলাদা আকর্ষণ।

ইসি ব্লক: ৫০তম বর্ষে মহাভারতের আখ্যান

সল্টলেকের ইসি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুজো ২০২৬ সালে ৫০ বছরে পা দিচ্ছে। এই বিশেষ বর্ষে তাদের থিমের নাম ‘অক্ষয়িনী’। শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্যের পরিকল্পনায় মণ্ডপজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে মহাভারতের নানা মহাকাব্যিক আখ্যান।মহাভারতের কাহিনি মণ্ডপশিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার ভাবনা শিল্পীর দীর্ঘদিনের। এবার সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে পৌরাণিক কাহিনি ও শিল্পের মেলবন্ধন এই মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে।

নিউটাউন সিএ ব্লক: গ্রামোফোনে ফিরবে সোনালি দিনের স্মৃতি

আজকের ডিজিটাল সঙ্গীতের যুগে গ্রামোফোন অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। অথচ একটা সময় বাঙালির বিনোদন ও গান শোনার জগতে এই যন্ত্রের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সেই হারিয়ে যাওয়া সময়কে নতুন করে মনে করিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে নিউটাউন সিএ ব্লক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন।নবম বর্ষের এই পুজোয় গ্রামোফোনকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। গ্রামোফোন কোম্পানির সূচনা থেকে শুরু করে সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের শিল্পীদের অবদান—বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। নস্টালজিয়া আর সঙ্গীতের ইতিহাসে আগ্রহীদের কাছে এই থিম বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

সল্টলেক এ কে ব্লক: ১৬০০ বর্গফুটের বিশাল হাঁড়িতে অন্নপূর্ণার ভাবনা

সল্টলেকের এ কে ব্লকের পুজোয় এবার অন্নের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে অভিনব মণ্ডপ। প্রায় ১৬০০ বর্গফুটের বিশাল হাঁড়ির আদলে মণ্ডপ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য এবং ঈশ্বরী পাটনির বিখ্যাত প্রার্থনা—‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’।মণ্ডপের ভিতরে ভাত ফুটতে থাকার মতো দৃশ্যায়নের মাধ্যমে অন্নের গুরুত্ব ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। শুধু বাহারি সাজসজ্জা নয়, খাবার ও জীবনের মৌলিক চাহিদা নিয়ে একটি বার্তাও পৌঁছে দিতে চায় এই থিম।

সল্টলেক এফডি ব্লক: ‘নকশি কণার মাঠে’ গ্রামবাংলার লোকশিল্প

সল্টলেকের এফডি ব্লক সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারের আয়োজন ৪২তম বর্ষে পড়ছে। শিল্পী প্রশান্ত পালের ভাবনায় থিম ‘নকশি কণার মাঠ’। সুতো, রঙিন কাপড়, নকশা ও ঝুলন্ত পুতুলের ব্যবহারে গ্রামবাংলার লোকশিল্প এবং হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে।মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে মা কালী ডেকরেটার্স। প্রতিমা নির্মাণ করছেন তপন মাঝি। বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং লোকশিল্পীদের সৃজনশীল কাজকে সামনেআনাই এই ভাবনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

নিউটাউন সর্বজনীন: পদ্মের সৌন্দর্যে ‘পদ্ম-ভূষণ’

নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবার পঞ্চম বর্ষে পা দিচ্ছে। শিল্পী রিন্টু দাসের পরিকল্পনায় এবারের থিম ‘পদ্ম-ভূষণ’। বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পদ্মের প্রতীকী গুরুত্ব ও নান্দনিকতাকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।পদ্মের আকার, সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা থাকবে এই আয়োজনে। অন্য চারটি মণ্ডপের পৌরাণিক কাহিনি, সঙ্গীত, অন্ন ও লোকশিল্পের ভাবনার পাশাপাশি এই থিমও দর্শনার্থীদের সামনে আলাদা এক শিল্পভাবনা তুলে ধরবে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এ সল্টলেক, বিধাননগর ও নিউটাউনের পাঁচটি মণ্ডপে থাকছে অভিনব থিমের চমক। কোথাও মহাভারতের মহাকাব্যিক কাহিনি, কোথাও গ্রামোফোনের সোনালি দিনের স্মৃতি, আবার কোথাও অন্নপূর্ণার বিশাল হাঁড়ি ও বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকশিল্পকে তুলে ধরা হচ্ছে। পদ্মকে কেন্দ্র করেও তৈরি হচ্ছে বিশেষ শিল্পভাবনা। পুজোর ভিড়ে নতুন কিছু দেখতে চাইলে এই মণ্ডপগুলি দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে পারে।

Leave a comment