পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ প্রাথমিক রুজান উত্তরবঙ্গে বিজেপির এগিয়ে থাকা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাথমিক রুজানে ২৯৩ আসনের মধ্যে প্রায় ১৬০ আসনের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে উত্তরবঙ্গে বিজেপি ৩০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; প্রথম পর্যায়ে উচ্চ ভোটগ্রহণ এবং কিছু সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাথমিক রুজান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ২৯৩ আসনের মধ্যে প্রায় ১৬০ আসনে রুজান প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরবঙ্গ, যা নির্বাচনী দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত, মোট ৬০টি আসন নিয়ে গঠিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই আসনগুলির মধ্যে ৩০টির বেশি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্রিয় রয়েছে। এই প্রতিযোগিতা রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

উত্তরবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলায় নির্বাচনী লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসনগুলির মধ্যে বিধাননগর, রাজারহাট নিউ টাউন, শিলিগুড়ি, কার্শিয়াং, চোপড়া, বালুরঘাট এবং মালদা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভোটারদের প্রবণতা ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলের ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেছিল, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৫৯টি আসন। তবে ওই নির্বাচনে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী উপস্থিতি এই অঞ্চলেই দেখা গিয়েছিল, এবং ২০২৬ সালের রুজান সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ৯২.০৩ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৯৪.৯৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে, এরপর কুচবিহার (৯৪.৭৫ শতাংশ) এবং বীরভূম (৯৩.৮৮ শতাংশ)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতে, চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে ভোটের হার আরও বাড়তে পারে।

এই পর্যায়ে মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে, যারা ১৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।

উচ্চ ভোটগ্রহণের মধ্যেও কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা সামনে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ এলাকায় এক বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একই জেলার ডোমকল এলাকায় কিছু মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার অভিযোগ উঠেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে। এই ঘটনাগুলি নির্বাচনী পরিস্থিতিতে উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয় এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি উত্তরবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে তাদের শাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

 

Leave a comment