Eastern Railways: ট্রেনের চাকা গরম হলেই আগাম সতর্কবার্তা! মালদা ডিভিশনের ২১ স্টেশনে বসছে বিশেষ প্রযুক্তি

ট্রেনের অ্যাক্সেল বক্স অতিরিক্ত গরম হলেই মিলবে সতর্কবার্তা। যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে মালদা ডিভিশনের ২১টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছে হট অ্যাক্সেল বক্স ডিটেক্টর।

চলন্ত ট্রেনের কোনও চাকা বা অ্যাক্সেল বক্স অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে গেলে এবার আরও দ্রুত খবর পৌঁছে যাবে রেলকর্মীদের কাছে। যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে মালদা ডিভিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আধুনিক হট অ্যাক্সেল বক্স ডিটেক্টর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মোট ২১টি স্থানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ট্রেন না থামিয়েই চলন্ত অবস্থায় অ্যাক্সেল বিয়ারিংয়ের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

২১টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসেছে নতুন ব্যবস্থা

ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মনিশ কুমার গুপ্তার নির্দেশনায় মালদা ডিভিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।মালদা টাউন, বারহারওয়া, সাহেবগঞ্জ, জামালপুর, ভাগলপুর, ধুলিয়ান গঙ্গা, হাসদিহা, বারাহাট এবং গোড্ডা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের আওতায় এই ডিটেকশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এর লক্ষ্য হল ট্রেন চলাচলের সময় সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যার প্রাথমিক সংকেত দ্রুত পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

কীভাবে কাজ করে ‘হট অ্যাক্সেল বক্স ডিটেক্টর’?

নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ব্যবস্থার মূল কাজ হল ট্রেনের অ্যাক্সেল বক্স বা বিয়ারিংয়ের তাপমাত্রা নজরে রাখা।ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলন্ত ট্রেনের অ্যাক্সেল বক্স স্ক্যান করে ডিটেক্টর। ট্রেনকে আলাদা করে থামানোর প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় কোনও অংশের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সিস্টেম তা শনাক্ত করতে পারে।এরপর সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছয়। ফলে সম্ভাব্য সমস্যা বড় আকার নেওয়ার আগেই ট্রেনটি পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়।

অতিরিক্ত গরম চাকা বা অ্যাক্সেল দ্রুত শনাক্ত

ট্রেনের চাকা বা অ্যাক্সেল অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া যান্ত্রিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। নতুন ডিটেক্টর ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা দ্রুত নজরে আনা সম্ভব।এছাড়াও ব্রেক বাইন্ডিং কিংবা হ্যান্ড ব্রেক সম্পূর্ণভাবে রিলিজ না হওয়ার মতো সমস্যার প্রাথমিক সংকেতও তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতার মাধ্যমে ধরা পড়তে পারে।সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নির্ধারিত চেকিং স্টেশনে সংশ্লিষ্ট রোলিং স্টক পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ট্রেন না থামিয়েই হবে তাপমাত্রা পরীক্ষা

এই প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হল চলন্ত ট্রেনের উপরেই তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায়। ইনফ্রারেড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাক্সেল বক্সের তাপমাত্রা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তাপমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে যায়।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আগাম নজরদারি

রেল পরিষেবায় যান্ত্রিক ত্রুটি সময়মতো শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকে জানা গেলে সেটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব।মালদা ডিভিশনের এই উদ্যোগের ফলে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা পাওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।

কী বলছেন ডিআরএম?

মালদা ডিভিশনের ডিআরএম মনিশ কুমার গুপ্তার বক্তব্য, ‘হট অ্যাক্সেল বক্স ডিটেক্টর’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।তাঁর মতে, এর ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও কার্যকরভাবে করা যাবে। যাত্রী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালদা ডিভিশনে নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও উন্নত করার কাজ চলবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে মালদা ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে আধুনিক ‘হট অ্যাক্সেল বক্স ডিটেক্টর’ বসানো হয়েছে। মোট ২১টি জায়গায় থাকা এই প্রযুক্তি চলন্ত ট্রেনের অ্যাক্সেল বিয়ারিংয়ের তাপমাত্রা নজরে রাখবে। কোনও অংশ অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠলে দ্রুত রেলকর্মীদের সতর্ক করা যাবে। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a comment