ইংল্যান্ড মহিলা দল আইসিসি মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তোলে। জবাবে শ্রীলঙ্কা মহিলা দল ২০ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং ইংল্যান্ড ৮৭ রানের জয় পায়।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ড্যানি ওয়াট-হজ ও অ্যামি জোনস ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী সূচনা এনে দেন। প্রথম উইকেটে তারা ১৩৫ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অ্যামি জোনস ৩৮ বলে ৫৩ রান করেন, যার মধ্যে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। মালকি মাদারা তার ইনিংসের ইতি টানেন।

এরপর ড্যানি ওয়াট-হজ অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে অপরাজিত ৮৪ রানের জুটি গড়েন। ড্যানি ৬২ বলে অপরাজিত ১০৫ রান করেন, আর ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। এই শতকের মাধ্যমে ড্যানি ওয়াট-হজ মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে শতরান করা সপ্তম ব্যাটার হন। তার ইনিংসের সুবাদে ইংল্যান্ড ২১৯/১-এর বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।
ইংল্যান্ডের ২১৯/১ স্কোরটি মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ। এর আগে এই রেকর্ডও ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, যারা ২০২৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২১৩/৫ করেছিল।
এছাড়া ড্যানি ওয়াট-হজ ও অ্যামি জোনসের ১৩৫ রানের জুটি ইংল্যান্ডের পক্ষে মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। এর আগে ২০২০ সালে হিদার নাইট ও ন্যাট সিভার-ব্রান্ট অপরাজিত ১৬৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। প্রথম উইকেটের জন্য এটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপও।
২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো হয়নি। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে নীলক্ষিকা সিলভা সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। হর্ষিতা সমরাবিক্রমা ২৯ এবং কাভিশা দিলহারি ১৯ রান যোগ করেন। হানসিমা করুনারত্নেও দুই অঙ্কের রান করেন, তবে অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অধিনায়ক চামারি আথাপাথুসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার কম রানে আউট হন এবং পুরো দল ২০ ওভারে ১৩২ রানে গুটিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তরুণ অলরাউন্ডার ফ্রেয়া কেম্প। মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি চার ওভারে ২২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া তৃতীয় বোলার হন। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন হলি কোলভিন এবং ড্যানি ওয়াট-হজ। তার সঠিক লাইন-লেংথের বোলিং শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে চাপে রাখে এবং ইংল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত করে।








