কংগ্রেস নেতা মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন শুনতে অস্বীকার করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৯ বিচারিক হস্তক্ষেপকে সীমিত করে এবং এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন আবেদনই নির্ধারিত আইনি প্রতিকার।
বিচারপতি পি. কে. মিশ্র এবং বিচারপতি এ. এস. চন্দূরকরের বেঞ্চ রায়ে বলেছে, প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক কাঠামো থেকে সরে গিয়ে কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করা যায় না।
মীনাক্ষী নটরাজন মধ্য প্রদেশ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন এই মর্মে যে, তিনি হায়দরাবাদের একটি আদালত-সংক্রান্ত সমনের বিবরণ নির্বাচনী নথিতে অন্তর্ভুক্ত করেননি।
এরপর নটরাজন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট আইনি মামলাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী এর তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল না।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৯-এর উল্লেখ করে জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপে এই বিধান সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, আদালত যদি কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে এবং অন্য ক্ষেত্রে তা না করে, তাহলে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে অসঙ্গতি সৃষ্টি হতে পারে।

আদালত আরও বলে, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন আবেদনের বিধান বিদ্যমান এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা উচিত। এই কারণে আবেদনটি গ্রহণ করা যায় না।
মীনাক্ষী নটরাজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে যুক্তি দেন যে, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে যথাযথ নয়। তিনি বলেন, Representation of the People Act অনুযায়ী প্রার্থীদের কেবল সেই সব মামলার তথ্য প্রকাশ করতে হয়, যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে অথবা কোনও আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছে।
সিংভি আদালতকে জানান, হায়দরাবাদের আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় এখনও শুধুমাত্র প্রাথমিক স্তরে জবাব চেয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে ওই মামলার উল্লেখ না করা মনোনয়ন বাতিলের ভিত্তি হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্ট তার একাধিক পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে জানায় যে, নির্বাচনী বিষয়ে বিচারিক সংযম বজায় রাখা সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বেঞ্চ তার আদেশে বলে, অনুচ্ছেদ ৩২৯-এর মর্মার্থ বিবেচনায় আদালত নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন রিট এখতিয়ার প্রয়োগ থেকে সবসময় বিরত থেকেছে। কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জন্য নির্বাচন আবেদনের পথ খোলা রয়েছে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আবেদন খারিজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে মীনাক্ষী নটরাজনের আইনি অধিকার শেষ হয়ে গেছে। তিনি অথবা তাঁর পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতে নির্বাচন আবেদন দায়ের করলে তা স্বাধীনভাবে বিবেচিত হবে।











