সিকারের ফতেহপুরে রয়্যাল রেসিডেন্সির বন্ধ ফ্ল্যাটে আগুন, এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দমকল

পুলিশ জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফতেহপুরের ছতারিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত রয়্যাল রেসিডেন্সির একটি বন্ধ ফ্ল্যাটে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফতেহপুর পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রয়্যাল রেসিডেন্সি একটি জনবহুল এলাকা, যেখানে আবাসিক ফ্ল্যাটের পাশাপাশি ব্যাংক, দোকান ও শোরুমও পরিচালিত হয়। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ঘटनাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী দল দেখতে পায় যে ফ্ল্যাটটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা খোলা সম্ভব না হওয়ায় এবং ফ্ল্যাটের ভেতরে ঘন ধোঁয়া জমে থাকায় দমকলকর্মীদের প্রবেশে অসুবিধা হয়। ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মী ও পুলিশ ফ্ল্যাটের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর ধোঁয়া বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দলটি আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।

প্রায় এক ঘণ্টার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর দমকল বিভাগ ও পুলিশ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন অন্য ফ্ল্যাট বা আশপাশের দোকানপাটে ছড়িয়ে পড়েনি।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ফ্ল্যাটে কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজের সময় ফতেহপুর কোতওয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহেন্দ্র কুমার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে কনস্টেবল সতপাল সিং ও নরেশ কুমারও ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ করা হয়নি। প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও দমকল বিভাগও ঘটনাটির তদন্তে যুক্ত রয়েছে।

রয়্যাল রেসিডেন্সি এলাকাটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যস্ত অঞ্চল। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ ও দমকল বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, দলটি সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে আগুন আশপাশের দোকান ও ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।

 

Leave a comment