কর্মজীবনে বেতন থেকে কাটা PF শুধু সঞ্চয় নয়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও। তাই Employees' Provident Fund Organisation (EPFO)-র নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ‘স্কিম সার্টিফিকেট’ ও ‘ফর্ম 10C’ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি থাকে। অথচ এই দু’টি বিষয় অবসরকালীন পেনশনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
PF ও পেনশনের পার্থক্য কী?
বেতন থেকে কাটা PF মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
EPF (Employees’ Provident Fund)
এতে কর্মচারীর নিজের অবদান এবং সংস্থার অবদানের বড় অংশ জমা হয়। চাকরি ছাড়ার পর এটি তোলা যায়।
EPS (Employees’ Pension Scheme)
কোম্পানির অবদানের ৮.৩৩% এই পেনশন তহবিলে যায়। অবসর (৫৮ বছর) নেওয়ার পর মাসিক পেনশন হিসেবে এই অর্থ পাওয়া যায়।
অনেকেই EPF-এর টাকা তুললেও EPS অংশটি কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকেন না।
স্কিম সার্টিফিকেট কী?
স্কিম সার্টিফিকেট হল এক ধরনের ‘সার্ভিস পাসবুক’, যা EPFO জারি করে। এতে উল্লেখ থাকে—
কত বছর কাজ করেছেন
পেনশনের জন্য কতদিনের সার্ভিস গণ্য হয়েছে
ভবিষ্যৎ পেনশনের যোগ্যতা
গুরুত্বপূর্ণ:
যদি কেউ ১০ বছরের কম সময় চাকরি করে চাকরি ছাড়েন, তাহলে তাঁর সামনে দু’টি বিকল্প থাকে—
EPS টাকা তুলে নেওয়া
স্কিম সার্টিফিকেট নেওয়া
স্কিম সার্টিফিকেট নিলে ভবিষ্যতে অন্য চাকরির সঙ্গে আগের সার্ভিস যোগ করা যায়।
ফর্ম 10C কী?
EPF ফর্ম 10C হল সেইসব কর্মচারীদের জন্য, যারা—
৬ মাসের বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম সময় কাজ করেছেন
চাকরি ছাড়ার পর পেনশন টাকা তুলতে চান অথবা
স্কিম সার্টিফিকেট পেতে চান
অর্থাৎ, EPS সংক্রান্ত দাবি করতে গেলে ফর্ম 10C জমা করতেই হবে।
পুরো টাকা তুলে নিলে কী ক্ষতি?
অনেকে চাকরি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে—
ফর্ম ১৯ (EPF তোলার জন্য)
ফর্ম ১০C (EPS তোলার জন্য)
দিয়ে পুরো টাকা তুলে নেন।
কিন্তু EPS অংশ তুলে নিলে আগের সার্ভিস আর গণ্য নাও হতে পারে।
ফলে মোট ১০ বছরের সার্ভিস পূর্ণ না হলে ভবিষ্যতে মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে না।

উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক
ধরা যাক—
কোম্পানি A-তে ৪ বছর কাজ
কোম্পানি B-তে ৬ বছর কাজ
যদি কোম্পানি A ছাড়ার সময় স্কিম সার্টিফিকেট না নেওয়া হয়, তাহলে প্রথম ৪ বছর পেনশনের ক্ষেত্রে শূন্য ধরা হতে পারে।
কিন্তু স্কিম সার্টিফিকেট থাকলে মোট ১০ বছর ধরে পেনশনযোগ্য সার্ভিস গণ্য হবে।
অবসর জীবনে কেন জরুরি?
EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী, ১০ বছর বা তার বেশি সার্ভিস থাকলে মাসিক পেনশনের যোগ্যতা তৈরি হয়।
স্কিম সার্টিফিকেট থাকলে—
আগের চাকরির সময় যোগ হবে
৫৮ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে
অবসর জীবনে নির্দিষ্ট আয় নিশ্চিত হবে
কী করবেন?
চাকরি ছাড়ার সময় EPS টাকা না তুলে স্কিম সার্টিফিকেট নিন
ফর্ম 10C সঠিকভাবে জমা দিন
নতুন চাকরিতে যোগ দিলে আগের সার্ভিস যুক্ত করুন
৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত নথি সংরক্ষণ করুন
শুধু PF-এর টাকা তোলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। EPS অংশ সংরক্ষণ করাই ভবিষ্যতের মাসিক পেনশনের চাবিকাঠি।স্কিম সার্টিফিকেট কোনও সাধারণ কাগজ নয়—এটাই আপনার অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি।













