১০ বছর চাকরি করলেই কি মিলবে মাসিক পেনশন? EPS-এর নিয়মে কত টাকা পাবেন, জানুন পুরো হিসেব

১০ বছর বা তার বেশি চাকরি করলে EPS পেনশনের যোগ্যতা কীভাবে তৈরি হয়? ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ বছরের পরিষেবায় আনুমানিক পেনশন কত হতে পারে, EPF ও EPS-এর পার্থক্য এবং পেনশন হিসেবের সূত্র জানুন।

চাকরি জীবনে প্রতি মাসে বেতন থেকে PF-এর জন্য টাকা কাটা হলেও অনেক কর্মী জানেন না, তাঁদের অবসরের পর মাসিক পেনশন কীভাবে নির্ধারিত হয়। EPF-এর পাশাপাশি EPS-এর অধীনেও কর্মীরা অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবার মেয়াদ এবং নির্দিষ্ট বয়সের নিয়ম রয়েছে। তাই আপনার চাকরির মেয়াদ যদি ১০ বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে EPS-এর নিয়মগুলি জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

EPS পেনশন পেতে ন্যূনতম কত বছর চাকরি করতে হয়?

EPS-এর নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক পেনশনের যোগ্যতা অর্জনের জন্য সাধারণভাবে অন্তত ১০ বছর যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবা সম্পূর্ণ করতে হয়। ১০ বছরের কম যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবা থাকলে সাধারণ মাসিক EPS পেনশনের যোগ্যতা তৈরি হয় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনশন ফান্ড সংক্রান্ত অন্য সুবিধা বা স্কিম সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা থাকতে পারে।

কত বছর বয়সে EPS পেনশন পাওয়া যায়?

সাধারণ নিয়মে ৫৮ বছর বয়সে EPS পেনশন শুরু করা যায়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে ৫০ বছর বয়সের পর আগাম পেনশন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত বয়সের আগে পেনশন নিলে পেনশনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

কীভাবে EPS পেনশনের হিসেব হয়?

সাধারণভাবে EPS পেনশন গণনার বহুল ব্যবহৃত সূত্র হল—

মাসিক পেনশন = (পেনশনযোগ্য বেতন × যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবার বছর) ÷ ৭০

ধরা যাক, পেনশনযোগ্য বেতন ₹১৫,০০০ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবার মেয়াদ ১০ বছর। তাহলে সরল সূত্র অনুযায়ী হিসেব হবে—

₹১৫,০০০ × ১০ ÷ ৭০ = প্রায় ₹২,১৪৩ প্রতি মাসে।

একইভাবে, ১৫ বছরের পরিষেবা হলে আনুমানিক হিসেব দাঁড়ায় প্রায় ₹৩,২১৪ প্রতি মাসে, ২০ বছরের ক্ষেত্রে প্রায় ₹৪,২৮৬ প্রতি মাসে এবং ২৫ বছরের ক্ষেত্রে প্রায় ₹৫,৩৫৭ প্রতি মাসে।তবে এগুলি শুধুমাত্র সূত্রভিত্তিক আনুমানিক হিসেব। প্রকৃত পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবা, পেনশনযোগ্য বেতন, প্রযোজ্য সার্ভিস ওয়েটেজ এবং Higher Pension সংক্রান্ত যোগ্যতা বা নিয়মের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

EPF আর EPS কি একই?

না, EPF এবং EPS-এর উদ্দেশ্য আলাদা।

EPF বা Employees' Provident Fund:

এটি মূলত অবসরের জন্য সঞ্চিত একটি তহবিল। কর্মী ও নিয়োগকর্তার নির্দিষ্ট অবদান EPF অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী তার উপর সুদ পাওয়া যায়। যোগ্যতার ভিত্তিতে অবসরের সময় এই তহবিলের অর্থ এককালীন পাওয়া যেতে পারে।

EPS বা Employees' Pension Scheme:EPS-এর মূল উদ্দেশ্য হল যোগ্য সদস্যকে অবসরের পর নিয়মিত মাসিক পেনশন প্রদান করা। ফলে EPF-এ আপনার সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি হলেও EPS-এর পেনশন আলাদা নিয়ম ও সূত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

অবসরের আগে কী পরিকল্পনা করবেন?

শুধু EPS পেনশনের উপর নির্ভর করে অবসর-পরবর্তী জীবন পরিকল্পনা না করাই ভালো। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতের খরচ বাড়তে পারে। তাই EPS-এর পাশাপাশি নিজের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের বিষয়েও পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

দীর্ঘদিন চাকরি করার পর অবসরের সময়ে নিয়মিত আয়ের অন্যতম ভরসা হতে পারে EPS বা Employees' Pension Scheme। তবে এই পেনশন পেতে নির্দিষ্ট সময়ের চাকরি, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। ১০ বছর বা তার বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন পরিষেবা থাকলে কীভাবে পেনশন হিসেব করা হয়, EPF ও EPS-এর মধ্যে পার্থক্য কী এবং অবসরের আগে কোন বিষয়গুলি জানা জরুরি—রইল সহজ ব্যাখ্যা।

Leave a comment