মাসির বাড়িতে সাত দিনের অতিথি পর্ব শেষ! এবার নিজের ঘরে ফিরলেন প্রভু জগন্নাথদেব। শুক্রবার ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আমেজে ইসকন মায়াপুরে পালিত হল উল্টোরথ বা পুনঃরথ যাত্রা। প্রভু জগন্নাথ, ভ্রাতা বলভদ্র এবং ভগিনী সুভদ্রার প্রত্যাবর্তন ঘিরে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে মায়াপুর ধাম। ‘হরিবোল’ এবং ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে তৈরি হয় এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

সাত দিন পর নিজের ধামে ফিরলেন জগন্নাথদেব
রথযাত্রার পর নিয়ম মেনে সাত দিন গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা। সেই পর্ব শেষ করে উল্টোরথের দিনে তাঁরা ফিরে আসেন রাজাপুরের নিজ মন্দিরে। এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মায়াপুরে।
সকাল থেকেই শুরু হয় বিশেষ আয়োজন
উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। বিশেষ পুজো, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতিতে মায়াপুর ধাম পরিণত হয় এক বিশাল ধর্মীয় মিলনক্ষেত্রে।
পাহন্ডি বিজয়ে রথে আরোহন
দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ গুন্ডিচা মন্দির থেকে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পাহন্ডি বিজয়। একে একে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রার বিগ্রহকে সুসজ্জিত রথে নিয়ে আসা হয়।রথে দেবতাদের বিরাজমান করার পর সম্পন্ন হয় আরতি, কীর্তন এবং বিভিন্ন বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান।

‘হরিবোল’ ধ্বনিতে শুরু উল্টোরথ
দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উল্টোরথ যাত্রা। ভক্তরা রথের দড়ি টেনে প্রভু জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নিয়ে এগিয়ে যান মূল মন্দিরের দিকে।হাজার হাজার ভক্তের কণ্ঠে একসঙ্গে ধ্বনিত হতে থাকে ‘হরিবোল’ এবং ‘জয় জগন্নাথ’। কীর্তনের সুর, ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং ধর্মীয় আবহে মায়াপুরের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
উল্টোরথ উৎসব উপলক্ষে ইসকন মায়াপুর কর্তৃপক্ষের তরফে ভক্তদের জন্য বিশেষ প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যও নেওয়া হয় বিশেষ প্রস্তুতি।দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা মায়াপুর ধাম এদিন যেন এক বৃহৎ মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

উল্টোরথের ধর্মীয় তাৎপর্য কী?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার সাত দিন পর উল্টোরথ বা পুনঃরথ যাত্রার মাধ্যমে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রা গুন্ডিচা মন্দির থেকে নিজেদের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তনের ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় উল্টোরথ উৎসব।

দীর্ঘ সাত দিন গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থানের পর উল্টোরথ যাত্রায় নিজের মন্দিরে ফিরে এলেন প্রভু জগন্নাথদেব। ভ্রাতা বলভদ্র ও ভগিনী সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে সুসজ্জিত রথে চেপে রাজাপুরের মন্দিরে ফিরলেন তাঁরা। হাজার হাজার ভক্তের ‘হরিবোল’ ও ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে এদিন মুখর হয়ে ওঠে ইসকন মায়াপুর।










