চিরুনি হাতে নিলেই একগুচ্ছ চুল উঠে আসছে? স্নান করার সময় বা বালিশে প্রতিদিন চোখে পড়ছে চুলের স্তূপ? তাহলে বিষয়টি একেবারে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার কারণ অনেক হতে পারে। দূষণ, স্ট্রেস, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং চুলের ভুল যত্নের পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতিও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত চুল পড়লে শুধু দামি শ্যাম্পু বা তেল বদলানোর বদলে শরীরের পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

ভিটামিন D-এর ঘাটতিতে কি চুল পড়তে পারে?
শরীরে ভিটামিন D-এর ঘাটতি থাকলে চুলের স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং কিছু ধরনের চুল পড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন D-এর মাত্রা পরীক্ষা করা যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডিম ও উপযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখার পাশাপাশি নিরাপদভাবে সূর্যালোক গ্রহণের বিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
ভিটামিন B12-এর অভাবেও সমস্যা হতে পারে
ভিটামিন B12 শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। এর ঘাটতি হলে দুর্বলতা ও রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়ার সঙ্গেও B12-এর ঘাটতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে ঘাটতি আছে কি না তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

জিঙ্কের ঘাটতিতে দুর্বল হতে পারে চুল
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় জিঙ্কের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য থেকেই জিঙ্ক পাওয়ার চেষ্টা করা ভালো।
আয়রনের ঘাটতিও হতে পারে অন্যতম কারণ
বিশেষ করে যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা আয়রন-ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাসিক রক্তক্ষরণ বা প্রসব-পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত চুল পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা যেতে পারে।
শুধু ভিটামিনের ঘাটতিই নয়, আরও কারণ থাকতে পারে
চুল পড়ার সমস্যা হলেই যে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অপুষ্টিকর ডায়েট, প্রসব-পরবর্তী হরমোনের পরিবর্তন এবং বংশগত কারণেও চুল পড়তে পারে।তাই হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়তে শুরু করলে বা মাথার কোনও নির্দিষ্ট অংশ ফাঁকা হয়ে যেতে থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চুল পড়া কমাতে কী কী বিষয়ে নজর দেবেন?
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকা দরকার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের প্রতি কোমল আচরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।চুল আঁচড়ানোর সময় অতিরিক্ত টান দেওয়া, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা বা ঘন ঘন অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ এড়িয়ে চলুন। তবে চুল পড়ার মূল কারণ না জেনে কোনও সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।

চুল পড়ার পিছনে শুধু শ্যাম্পু, তেল বা চুলের যত্নের অভাব দায়ী নয়। শরীরে কিছু পুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি, মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা প্রসব-পরবর্তী সময়েও অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন D, ভিটামিন B12, আয়রন ও জিঙ্কের ঘাটতির সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।








