মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (US SEC) ও গৌতম আদানির মধ্যে চলমান সিভিল ফ্রড মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। US SEC ভারত সরকারকে বাইপাস করে সরাসরি গৌতম আদানিকে সমন পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল।
মামলাসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা এক যৌথ আবেদনে গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাতিজা সাগর আদানি US SEC-এর আইনি নোটিস গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছেন। এই স্ট্যান্ডার্ড স্টিপুলেশন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। বিচারক যদি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন, তাহলে আদানির হাতে ৯০ দিন সময় থাকবে, যার মধ্যে তিনি SEC-এর অভিযোগের জবাব দেবেন অথবা মামলাটি খারিজের আবেদন দাখিল করতে পারবেন।
যৌথ আবেদনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালতের অনুমোদনের পর প্রতিপক্ষ হিসেবে আদানিকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা দাখিল বা মামলাটি খারিজের আবেদন করতে হবে। এর পর SEC-এর কাছে ৬০ দিন সময় থাকবে তাদের আপত্তি বা জবাব দাখিলের জন্য। সেই জবাবের পর প্রতিপক্ষ আরও ৪৫ দিনের মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জমা দিতে পারবে।

US SEC-এর অভিযোগে বলা হয়েছে, আদানি এবং সাগর আদানি আদানি গ্রিন এনার্জিকে সুবিধা দিতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দেওয়া বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের কাছে দুর্নীতি ও প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলাটি নভেম্বর ২০২৪-এ দায়ের করা হয়েছিল, যদিও গত এক বছরে এই মামলায় প্রকাশ্য আপডেট তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
US SEC আদালতের কাছে আবেদন করেছিল যাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি নথি পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি আদানির কাছে নোটিস পাঠানো যায়, কারণ ভারত থেকে আইনি নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
এই মামলায় গৌতম আদানি ও সাগর আদানি সংশ্লিষ্ট সংস্থার এক্সিকিউটিভ ও ডিরেক্টর পদে রয়েছেন। গৌতম আদানির পক্ষে তাঁর মার্কিন আইনজীবী রবার্ট গিফরা এবং সাগর আদানির পক্ষে আইনজীবী শন হেকার আদালতে নোটিস গ্রহণের বিষয়ে সম্মতির কথা জানালেও মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এখন আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন পদ্ধতিতে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে নোটিস কার্যকর হবে।











