পিতৃপক্ষের ভিড়ে গয়া জংশনে বাড়ল চাপ, NI কাজের কারণে ১৫টির বেশি ট্রেনের রুট পরিবর্তন

মোকামা রাজেন্দ্র রেল সেতুতে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত NI কাজের কারণে একাধিক ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। পিতৃপক্ষ মেলার সময় কিউল-গয়া হয়ে ১৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন গ্র্যান্ড কর্ড রেল সেকশন দিয়ে চলছে।
পিতৃপক্ষের ভিড়ে গয়া জংশনে বাড়ল চাপ, NI কাজের কারণে ১৫টির বেশি ট্রেনের রুট পরিবর্তন
Photo Credit / Attribution: Google

গয়াজিতে পিতৃপক্ষ মহাসঙ্গমকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভক্তদের পৌঁছনোর ধারা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মোকামার রাজেন্দ্র রেল সেতুতে চলমান নন-ইন্টারলকিং (NI) কাজের কারণে রেলওয়ে একাধিক ট্রেনের পরিষেবায় পরিবর্তন করেছে। বহু ট্রেন নির্ধারিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথে চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন কিউল-গয়া হয়ে গ্র্যান্ড কর্ড রেল সেকশন দিয়ে চলাচল করছে। ফলে পিতৃপক্ষে গয়া আসা যাত্রীরা একদিকে বিকল্প রেল পরিষেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে গয়া জংশনে ট্রেন ও যাত্রীর চাপও বেড়েছে।

মোকামা রেল সেতু থেকে নতুন সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত NI কাজ চলছে। এই প্রযুক্তিগত কাজের প্রভাব পূর্ব মধ্য রেলের একাধিক রেল সেকশনে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রেলওয়ে একাধিক ট্রেনের রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প পথে চালানো যায়। রেলওয়ের আগে থেকে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এই সময়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল, রুট পরিবর্তন অথবা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়েছে।

গয়ায় বর্তমানে পিতৃপক্ষ মেলা চলছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পূর্বপুরুষদের পিণ্ডদান ও তর্পণ করতে গয়াজিতে পৌঁছচ্ছেন। ফলে সাধারণ দিনের তুলনায় গয়া জংশনে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই ভিড়ের মধ্যে পরিবর্তিত রুটে আসা ট্রেনের কারণে স্টেশনে ট্রেন পরিচালনা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনা রেলওয়ের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যাত্রীদের ট্রেনের রুট ও প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত তথ্য দিতে স্টেশনে ঘোষণা, তথ্যফলক এবং কর্মীদের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিউল-গয়া হয়ে গ্র্যান্ড কর্ড রেল সেকশন দিয়ে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে 15657 দিল্লি-কামাখ্যা ব্রহ্মপুত্র মেল, 15658 কামাখ্যা-দিল্লি ব্রহ্মপুত্র মেল, 22405 ভাগলপুর-আনন্দ বিহার টার্মিনাল গরিব রথ এক্সপ্রেস, 22406 আনন্দ বিহার টার্মিনাল-ভাগলপুর গরিব রথ এক্সপ্রেস এবং 15647 লোকমান্য তিলক টার্মিনাস-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলির পরিবর্তিত রুট বিভিন্ন তারিখ ও পরিষেবা সূচি অনুযায়ী কার্যকর রয়েছে। তাই যাত্রীদের নিজেদের ট্রেনের নির্ধারিত দিনের সর্বশেষ রুট অবশ্যই দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও কয়েকটি ট্রেন কিউল থেকে শেখপুরা, বিহারশরিফ এবং বখতিয়ারপুর হয়ে চালানো হচ্ছে। রুট পরিবর্তনের প্রভাব শুধু গয়া আসা যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নবাদা, শেখপুরা, লখিসরাই এবং আশপাশের এলাকার যাত্রীরাও এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছেন। অন্যদিকে, পরিবর্তিত এই রুটগুলির কারণে ওই এলাকার যাত্রীদের জন্য কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রার বিকল্পও তৈরি হয়েছে।

পিতৃপক্ষ মেলার কারণে গয়ামুখী ট্রেনগুলিতে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত যাতায়াত করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রেলপথে গয়া পৌঁছে বিষ্ণুপদ মন্দির, ফল্গু নদীর ঘাট এবং অন্যান্য পিণ্ডদানস্থলে যাচ্ছেন। ফলে ট্রেনের রুট পরিবর্তিত হলে যাত্রীদের আগেই যাত্রার পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবার গয়াজিতে আসা যাত্রীদের জন্য পরিবর্তিত রুট ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থার তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মোকামায় চলমান NI কাজ নতুন রেল সেতুকে বর্তমান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর জন্য রাজেন্দ্র পুল মোকামা, হাতিদহ আপার, টাল, রামপুর ডুমরা এবং দিনকর গ্রাম সিমরিয়া-সহ বিভিন্ন স্টেশন ও রেল সেকশনে প্রযুক্তিগত কাজ চলছে। নতুন সেতু যুক্ত হওয়ার পর এই রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে।

রেলওয়ের এই বড় প্রযুক্তিগত কাজের কারণে সেপ্টেম্বর মাসে বিপুল সংখ্যক ট্রেনের পরিষেবায় পরিবর্তন করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং বহু ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরও রেলওয়ের কাজের কারণে বিপুল সংখ্যক ট্রেন প্রভাবিত হয়েছিল। তাই যাত্রীদের জন্য শুধুমাত্র টিকিটে উল্লেখ থাকা পুরনো রুটের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। যাত্রার আগে ট্রেনের সর্বশেষ পরিষেবা ও রুট দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

পিতৃপক্ষকে সামনে রেখে গয়া জংশনেও আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেলওয়ে আধিকারিকরা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, সার্কুলেটিং এরিয়া, হোল্ডিং এরিয়া এবং অপেক্ষালয় পরিদর্শন করেছেন। যাত্রীদের জন্য পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা, আলোর ব্যবস্থা, তথ্য ও ঘোষণা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভিড় বাড়লে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ সুশৃঙ্খল রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পিতৃপক্ষের সময় গয়া জংশনে যাত্রীদের চাপ শুধু ট্রেন আসার সময়েই থাকে না। বিপুল সংখ্যক ভক্ত স্টেশন থেকে নামার পর সরাসরি পিণ্ডদানস্থলের দিকে যান। আবার আচার-অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার সময়ও স্টেশনে ভিড় হয়। ফলে স্টেশন চত্বরের পাশাপাশি ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম এবং সার্কুলেটিং এরিয়াতেও রেলওয়েকে নিয়মিত নজরদারি রাখতে হচ্ছে।

পরিবর্তিত রুটে চলা ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সব ট্রেন প্রতিদিন একই পরিবর্তিত রুটে চলছে না। কিছু ট্রেনের রুট নির্দিষ্ট কয়েকটি তারিখের জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই কোনো যাত্রী আগে থেকেই টিকিট করে থাকলে তাঁকে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী নিজের ট্রেনের আপডেট যাচাই করতে হবে। রেলওয়েও যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের পরিষেবার অবস্থা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে।

মোকামা রেল সেতুর কাজ এবং পিতৃপক্ষ মেলার সময় একইসঙ্গে পড়ায় গয়া-কিউল রেল সেকশনের গুরুত্বও বেড়েছে। কিউল থেকে গয়া এবং সেখান থেকে গ্র্যান্ড কর্ড হয়ে চলা ট্রেনগুলির কারণে এই রুটে অতিরিক্ত পরিষেবা চাপ দেখা যাচ্ছে। একদিকে রেলওয়েকে প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পিতৃপক্ষের সময় লাখ লাখ ভক্তের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও সামলাতে হচ্ছে।

বর্তমানে ৪ অক্টোবরের মধ্যে মোকামা রেল সেতু সংক্রান্ত NI কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পরিবর্তিত রুটে চলা ট্রেনগুলির পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। তবে কোনো ট্রেনের রুট, সময় বা স্টপেজে পরিবর্তন হলে যাত্রীদের রেলওয়ের সর্বশেষ আপডেটকেই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

গয়াজিতে পিতৃপক্ষ মেলা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলিতেও ভক্তদের যাতায়াত অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত কাজের মধ্যে যাত্রী পরিষেবা ও ট্রেন পরিচালনার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা রেলওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিউল-গয়া হয়ে চলা অতিরিক্ত বা পরিবর্তিত ট্রেনগুলি বহু যাত্রীর জন্য বিকল্প যাত্রার সুযোগ তৈরি করছে। তবে স্টেশনে বাড়তে থাকা চাপের কারণে যাত্রীদেরও যাত্রার আগে ট্রেনের রুট ও সময় অবশ্যই যাচাই করা প্রয়োজন।

Leave a comment