ভোটার তালিকা সংশোধনের SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় এবার উঠে এল ‘ভূতুড়ে সদস্য’-এর অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের এক পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের পরিবর্তে কমিশনের ম্যাপিংয়ে ছ’জনের নাম উঠে আসায় শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে এক তরুণীকে। সেই নোটিস ঘিরেই প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং তার প্রধান সীমা খান্না।
কীভাবে সামনে এল ম্যাপিংয়ের গরমিল?
মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা নাইমা খাতুন জানান, তাঁরা মোট পাঁচ ভাই-বোন। এনুমারেশন ফর্ম পূরণের সময় পাঁচজনেই তাঁদের বাবার নাম ব্যবহার করে ভোটার ম্যাপিং করান। কিন্তু দ্বিতীয় দফার শুনানির নোটিসে কমিশন জানায়, একই বাবার নামের সঙ্গে ছ’জন ভোটারের ম্যাপিং হয়েছে।
শুনানির নোটিসে অবাক পরিবার
নোটিস পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই হতবাক নাইমা ও তাঁর পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন—যেখানে বাস্তবে পাঁচজন সদস্য, সেখানে ষষ্ঠ ব্যক্তি ব্যালটে এল কীভাবে? এই ‘অতিরিক্ত’ নামের দায় পরিবারের, নাকি প্রশাসনিক ব্যবস্থার?
সীমা খান্নাকে সরাসরি বার্তা নাইমার
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে নির্বাচন কমিশনের আইটি সেলের প্রধান সীমা খান্নাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান নাইমা। সেখানে তিনি লেখেন, “এই ধরনের ভুলের জন্য দায়ী কে—আমি, না আপনাদের সংস্থা?” পাশাপাশি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, প্রয়োজনে কমিশন তাঁদের বাড়িতে এসে পরিবারের সমস্ত নথিপত্র যাচাই করুক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বার্তা
নাইমার ওই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বার্তার সত্যতা সংবাদমাধ্যমের তরফে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবু বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে যায়।
তৃণমূলের কটাক্ষ: ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির হয়রানি’
নাইমার বার্তাকে হাতিয়ার করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপত্র অরূপ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, NIC-এর ডেপুটি ডিরেক্টর সীমা খান্নার ভূমিকার কারণেই বাংলার প্রায় দেড় কোটি মানুষ ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র নামে হয়রানির মুখে পড়ছেন।
আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে সীমা খান্নার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নবান্নে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের নাম ঢোকানো হচ্ছে।
নতুন প্রশ্ন: নাইমার ঘটনাই কি তার প্রমাণ?
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বিহার বা ঝাড়খণ্ডের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকার অভিযোগের সঙ্গে কি এই ‘ভূতুড়ে ম্যাপিং’-এর কোনও যোগ রয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার ম্যাপিং ঘিরে চাঞ্চল্য। মুর্শিদাবাদের এক পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের জায়গায় কমিশনের নথিতে দেখা যাচ্ছে ছ’জনের নাম। শুনানির নোটিস পেয়ে নির্বাচন কমিশনের আইটি সেলের শীর্ষ কর্তা সীমা খান্নাকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাইমা খাতুন। বিষয়টি সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব তৃণমূল কংগ্রেস।








