মঙ্গলবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ভারতীয় কমোডিটি বাজার এবং সারাফা বাজার উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যবান ধাতুর দাম নিম্নমুখী ছিল। এর ফলে বিনিয়োগকারী ও গয়না ক্রেতাদের নজর এই বাজারের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, জ্বালানি বাজারে ওঠানামা এবং সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব সোনা ও রুপোর দামে প্রতিফলিত হয়েছে।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সোনার ফিউচার লেনদেনে প্রাথমিক সেশনে দুর্বলতা দেখা যায়। আগস্ট ডেলিভারির সোনা আগের ট্রেডিং সেশনের তুলনায় নিম্নস্তরে লেনদেন শুরু করে এবং দিনের লেনদেন চলাকালে উল্লেখযোগ্য পতন রেকর্ড করে। প্রাথমিক লেনদেনে সোনার দাম প্রায় ২,৯০০ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। পরবর্তী সময়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও বাজারে চাপ অব্যাহত ছিল। বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম সাধারণত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার দ্বারা প্রভাবিত হয়।
![]()
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও তীব্র পতন দেখা গেছে। এমসিএক্সে জুলাই ডেলিভারির রুপো আগের দিনের বন্ধ মূল্যের তুলনায় অনেক নিচে লেনদেন শুরু করে এবং দিনের মধ্যে প্রায় ৫,০০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম পর্যন্ত কমে যায়। রুপোর দামের ওপর শিল্পখাতের চাহিদা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতারও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
দেশীয় সারাফা বাজারেও সোনা ও রুপোর দামে বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ৪,৩০০ টাকা কমেছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও হ্রাস পেয়েছে। রুপোর খুচরা মূল্যেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে এবং এতে প্রায় ১০,০০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম পর্যন্ত কমতি রেকর্ড করা হয়েছে। মূল্যহ্রাসের এই প্রবণতাকে আসন্ন বিয়ে ও উৎসব মৌসুমের আগে ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ও রুপোর দাম শুধুমাত্র দেশীয় চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল নয়; আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি, জ্বালানি বাজারে ওঠানামা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত নীতি নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও মূল্যবান ধাতুর মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
যদি সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে বজায় থাকে, তবে বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো সুদবিহীন বিনিয়োগে তাদের অংশীদারিত্ব কমাতে পারেন, যার ফলে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।











