আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার দামও দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে সোনাকে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখছেন। এর ফলে ভারতে গোল্ড লোন নেওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বাড়ার সময় বেশি ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

গোল্ড লোনের চাহিদা কেন বাড়ছে
উচ্চ সোনার দামের কারণে এখন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থাগুলি আগের তুলনায় বেশি ঋণ দিতে রাজি হচ্ছে। সাধারণত সোনার বর্তমান বাজারমূল্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়।উদাহরণস্বরূপ—যে গয়নার বিপরীতে আগে ১ লক্ষ টাকা ঋণ পাওয়া যেত, এখন সেই একই গয়নার বিপরীতে ১.২৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি ঋণ পাওয়া সম্ভব। অনেকেই এই বাড়তি টাকার লোভে নিজেদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেন।
সোনার দামের ওঠানামার ঝুঁকি
যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় সোনার দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমেও যেতে পারে।যদি কেউ রেকর্ড দামে গোল্ড লোন নেন এবং পরে সোনার দাম ৫–১০ শতাংশ কমে যায়, তাহলে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত টাকা বা মার্জিন জমা দিতে বলতে পারে।

‘মার্জিন মানি’ না দিলে কী হতে পারে
যদি ঋণগ্রহীতা সময়মতো অতিরিক্ত মার্জিন মানি জমা দিতে না পারেন, তাহলে ঋণদাতা সংস্থা বন্ধক রাখা সোনা নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। অনেকেই এই প্রযুক্তিগত বিষয়টি আগে থেকে বুঝতে পারেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের মূল্যবান গয়না হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
ঋণ পরিশোধে দেরি হলে বড় সমস্যা
ভারতের মতো দেশে সোনা শুধু আর্থিক সম্পদ নয়, পরিবারের আবেগের সঙ্গেও জড়িত। তাই গোল্ড লোনের কিস্তি পরিশোধে সমস্যা হলে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে।গোল্ড লোন সাধারণত স্বল্পমেয়াদী হয়। তাই নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকলে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন গোল্ড লোন নেওয়া উচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোল্ড লোন নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখা জরুরি—

চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে
এমন কাজে বিনিয়োগের জন্য যেখানে ভবিষ্যতে আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে
ঋণের কিস্তি পরিশোধের স্থির পরিকল্পনা থাকলে
শুধু সোনার দাম বেশি বলে বেশি ঋণ নেওয়া আর্থিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম বাড়ার কারণে গোল্ড লোন নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঋণ নিলে বড় আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করলে বা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে বন্ধক রাখা গয়না ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা নিলামে তুলতে পারে।









