দেশের বাজারে সোনার দাম ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। বিয়ে, বিনিয়োগ কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে সোনা কেনা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই দুবাইয়ের তুলনামূলক সস্তা সোনার বাজার ভারতীয় যাত্রীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশ্ন একটাই—আইন মেনে দুবাই থেকে সোনা আনলে সত্যিই কতটা লাভ হয়?
কেন দুবাইয়ে সোনা তুলনামূলক সস্তা?
দুবাইয়ে সোনার উপর করের হার খুবই কম। পাশাপাশি সেখানে মেকিং চার্জ ও প্রিমিয়াম ভারতের তুলনায় অনেকটাই কম নেওয়া হয়। অন্যদিকে ভারতে আমদানি শুল্ক, জিএসটি ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হওয়ায় সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই কর কাঠামোর পার্থক্যই মূলত দামের ব্যবধান তৈরি করে।
ভারত বনাম দুবাই: সোনার দামের তুলনা
বর্তমানে ভারতে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম যদি ধরা হয় প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬২,৭১০ টাকা, সেখানে দুবাইয়ে একই পরিমাণ সোনা পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১,৫০,০০০–১,৫০,২৫০ টাকায়।অর্থাৎ, প্রতি ১০ গ্রামে গড়ে ১২,৫০০–১২,৭০০ টাকা কম দামে সোনা মিলছে দুবাইয়ে।
দুবাইয়ে যদি প্রতি গ্রাম সোনার দাম ধরা হয় ৬০১ দিরহাম এবং ১ দিরহাম ≈ ২৫ টাকা, তাহলে ১০ গ্রামের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০,২৫০ টাকা।
আইন মেনে দুবাই থেকে সোনা আনতে কী কী শর্ত?
ভারতে বৈধভাবে দুবাই থেকে সোনা আনতে হলে যাত্রীকে অবশ্যই—
ভারতীয় নাগরিক হতে হবে
কমপক্ষে ৬ মাস বিদেশে অবস্থান করতে হবে
বিমানবন্দরে রেড চ্যানেল দিয়ে ঘোষণা করতে হবে
সর্বোচ্চ ১ কেজি পর্যন্ত সোনা আনার অনুমতি রয়েছে
এই শর্তগুলির যেকোনও একটি পূরণ না হলে সোনা আনা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কাস্টমস ডিউটি দিলে মোট খরচ কত দাঁড়ায়?
ধরা যাক—
দুবাইয়ে ১ কেজি সোনার দাম ≈ ১,৫০,০০,০০০ টাকা
কাস্টমস ডিউটি (১০%) ≈ ১৫,০০,০০০ টাকা
মোট খরচ ≈ ১,৬৫,০০,০০০ টাকা
অন্যদিকে,
ভারতে ১ কেজি সোনার দাম ≈ ১,৬২,৭১,০০০ টাকা
তার উপর ৩% জিএসটি ≈ ৪,৮১,৩০০ টাকা
মোট ≈ ১,৬৭,৫২,৩০০ টাকা
ফলাফল: দুবাই থেকে সোনা আনলে সাশ্রয় ≈ ২,৫০,০০০–২,৫৫,০০০ টাকা (প্রায়)
কারা শুল্কমুক্ত ছাড় পান?
শুধুমাত্র সোনার গয়নার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত ছাড় রয়েছে—
মহিলা যাত্রী: সর্বোচ্চ ৪০ গ্রাম (মূল্য ≤ ১ লক্ষ টাকা)
পুরুষ যাত্রী: সর্বোচ্চ ২০ গ্রাম (মূল্য ≤ ৫০ হাজার টাকা)
এই ছাড় সোনার বার, কয়েন বা বিস্কুটে প্রযোজ্য নয়।
ঘোষণা না করলে কী ঝুঁকি?
বিনা ঘোষণায় সোনা আনলে কাস্টমস বিভাগ সোনা বাজেয়াপ্ত করতে পারে। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানা ও আইনি জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই বিল, রসিদ এবং শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভারতে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর ফলে বহু মানুষ দুবাই থেকে সোনা কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু আইন মেনে কাস্টমস ডিউটি ও কর পরিশোধ করার পরেও আদৌ লাভ থাকে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হিসেব বলছে, সব নিয়ম মানলে দুবাই থেকে ১ কেজি সোনা আনলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব।













