পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে অমর্ত্য সেনকে আক্রমণ করায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অমর্ত্য সেনের উদ্বেগ
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, এই প্রক্রিয়া যত্ন ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে হওয়া উচিত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তা ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করে করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, ভোটারদের নিজেদের পরিচয় প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ না দিলে তা শুধু নাগরিকদের প্রতি অন্যায় নয়, ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর।
শুভেন্দু অধিকারীর কড়া পাল্টা মন্তব্য
অমর্ত্য সেনের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের জন্য অমর্ত্য সেনের বাস্তব কোনও অবদান নেই। কর্মসংস্থান বা গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন তিনি, যাঁদের বাংলার উন্নয়নে ভূমিকা নেই, তাঁদের মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র প্রতিবাদ
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয় এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের প্রতি এই ধরনের মন্তব্যকে অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
অমর্ত্য সেনের নোটিস ও রাজনৈতিক জল্পনা
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পেয়েছিলেন অমর্ত্য সেন। বিদেশে থাকায় তিনি নিজে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর পরিবারের সদস্য বোলপুরে শুনানিতে অংশ নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান
এসআইআর নোটিস ইস্যুতে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেনও তাঁর মতামত স্পষ্ট করেছিলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মন্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কড়া আক্রমণ, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র নিন্দা।










