ম্যাচ তখন কার্যত হাতছাড়া। স্কোরবোর্ডে ভয় ধরানো রান, ড্রেসিংরুমে নিস্তব্ধতা। ঠিক সেই মুহূর্তেই ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে যেন যুদ্ধের ময়দানে নামলেন বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ। WPL-এ আরসিবি বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে বেরোল একের পর এক বিস্ফোরণ—যা দেখে গ্যালারি থেকে টিভি স্ক্রিন, সর্বত্র শুধু একটাই প্রশ্ন, এ কী আগুন!
ম্যাচের প্রেক্ষাপট: বিপদের মুখে RCB
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ব্রান্টের শতরানের সৌজন্যে ৪ উইকেটে বিশাল ১৯৯ রান তোলে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১১.১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৭ রান—পুরোপুরি ব্যাকফুটে আরসিবি। ঠিক তখনই ক্রিজে আসেন রিচা ঘোষ।
ব্যাট হাতে তাণ্ডব: প্রেসার কুকারে রিচা
প্রেসার সিচুয়েশন? রিচার কাছে সেটা যেন বাড়তি অনুপ্রেরণা।
মাত্র ৫০ বলে ৯০ রান, ইনিংস জুড়ে—
৬টি বিশাল ছয়
১০টি ঝকঝকে চার
বোলাররা একের পর এক বদলালেও থামানো গেল না বঙ্গ তনয়াকে। প্রতিটা শটেই ছিল আত্মবিশ্বাস আর আগ্রাসনের ছাপ।
শতরান হাতছাড়া, ভেঙে পড়ল ইনিংস
অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হয় রিচার। তিনি আউট হতেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আরসিবির ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় দল। ম্যাচ হারলেও, রিচার ইনিংস হয়ে ওঠে রাতের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়।
WPL-এ নতুন ইতিহাস গড়লেন রিচা
এই ইনিংসের সুবাদে একাধিক রেকর্ড নিজের নামে তুলে নিলেন রিচা ঘোষ—
WPL-এ ছয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান (৯০)
শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের সঙ্গে ১০ উইকেটে ১৮ বলে ৫৫ রানের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ
এই নজির WPL-এর ইতিহাসে আলাদা করে লেখা থাকবে।
বাংলার গর্ব, ভারতের শক্তি
বাংলা ক্রিকেট বহু প্রতিভা উপহার দিয়েছে, আর সেই তালিকায় রিচা ঘোষ এখন উজ্জ্বলতম নামগুলোর একটি। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। হার-জিতের বাইরেও, এই ইনিংস প্রমাণ করে দিল—রিচা শুধুই প্রতিভা নন, তিনি ম্যাচ উইনার।
চাপের মুখে মাথা নোয়ান না তিনি। WPL-এ আরসিবির জার্সিতে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপে ধরা দিলেন বাংলার তারকা রিচা ঘোষ। মাত্র ৫০ বলে ৯০ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসে একাধিক রেকর্ড গড়লেন বঙ্গকন্যা, যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারতে হয় আরসিবিকে।













