পাকিস্তানি ক্রিকেট মানেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা—আর সেই চেনা ‘পাকিস্তানি নার্ভ’-এর নিখুঁত উদাহরণ হয়ে উঠলেন ফাহিম আশরাফ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে লোয়ার অর্ডারে নেমে অসাধারণ ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ ফিনিশ করে দিলেন ফাহিম, যা ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হিরো ফাহিম
কলকাতায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যখন চাপে, তখন ক্রিজে ছিলেন ফাহিম আশরাফ। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ বলে ২৯ রান। সঙ্গে ছিলেন শাহিন আফ্রিদি। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ফাহিম।
১১ বলে অপরাজিত ২৯—ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংস
লোয়ার অর্ডারে নেমে মাত্র ১১ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ফাহিম। ১৯তম ওভারে তাঁর ব্যাট থেকে আসে একের পর এক ছক্কা। ওই ওভারেই তিনি তোলেন ২৪ রান, যা কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ক্যাচ পড়ল, কিন্তু নার্ভ ভাঙল না
১৯তম ওভারে নেদারল্যান্ডসের এক ফিল্ডার ফাহিমের ক্যাচ ফেলেন। সেই সুযোগকেই পুরোপুরি কাজে লাগান তিনি। একের পর এক বড় শটে বুঝিয়ে দেন, ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান হার মানে না—এই মানসিকতাই তাঁর আসল শক্তি।
ম্যাচ সেরা ফাহিম, ছাপ ফেললেন ওপেনারদেরও ছাপিয়ে
যদিও ওই ম্যাচে পাকিস্তানের ওপেনার ফারহান সাহেবজাদা সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছিলেন, তবুও ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি আসে ফাহিমের ব্যাট থেকেই। সেই কারণেই তাঁকেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেওয়া হয়।
কে এই ফাহিম আশরাফ? এক ঝলকে প্রোফাইল
ফাহিম আশরাফ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৪ সালের ১৬ জানুয়ারি, পাঞ্জাবের কাসুরে। তিনি একজন মিডিয়াম পেস বোলার হলেও লোয়ার অর্ডারে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
পাকিস্তানের হয়ে তিনি—
১৭টি টেস্ট,
৪২টি ওয়ানডে,
৮১টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর উইকেট সংখ্যা শতাধিক, যা তাঁকে কার্যকর অলরাউন্ডারে পরিণত করেছে।
পাকিস্তানি ক্রিকেটের ‘ফিনিশার ফ্যাক্টর’
ফাহিম আশরাফ এমন এক ক্রিকেটার, যিনি চাপের মধ্যে নিজের সেরা ক্রিকেটটা খেলেন। টিম ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর উপর, আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি প্রমাণ করে দিলেন কেন তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২6-এর প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়লেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতিতে ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।













