কখনও হঠাৎ দরপতন, আবার কখনও আচমকা চড়া—সোনার বাজারে এই দোলাচল সাধারণ ক্রেতাদের কার্যত বিভ্রান্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুম ঘনিয়ে আসতেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে বড় প্রশ্ন—এখনই কি সোনা কেনা উচিত, না কি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা ভালো? এই আবহেই জোর চর্চায়, সোনার দাম আবার কি ৭০ হাজার টাকার নিচে নামতে চলেছে?
ডলারের শক্তি বাড়ছে, চাপ বাড়ছে সোনার উপর
বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিক গতি সোনার দামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ডলার শক্তিশালী হলে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দামে।
যুদ্ধের আশঙ্কা কম, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদাও হ্রাস
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সময়ে সোনা ছিল বিনিয়োগকারীদের ‘সেফ হেভেন’। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী সোনা থেকে টাকা তুলে শেয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। বাজারের পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘প্রফিট বুকিং’, যা সোনার দামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
৭০ হাজারে নামা কি আদৌ সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি সোনা গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ধরে রাখতে না পারে, তাহলে ভারতীয় বাজারে বড় পতন দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৭০ হাজার টাকার আশপাশে নামা একেবারে অসম্ভব নয়। তবে এটি হবে ধাপে ধাপে, হঠাৎ নয়।
রুপির শক্তি বাড়লে মিলতে পারে স্বস্তি
ডলারের তুলনায় রুপি সামান্য শক্তিশালী হলে সোনা আমদানির খরচ কমবে। এতে দেশের বাজারে দামের উপর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়তে পারে। এই দুটি ফ্যাক্টর—ডলার ও রুপি—একসঙ্গে কাজ করলে সোনার দামে ধীরগতির পতন সম্ভব বলে মত বাজার সূত্রের।
সোনার দামের ওঠানামা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় সাধারণ মানুষ। বিয়ের মরশুমের আগে সোনা কিনবেন, না কি অপেক্ষা করবেন—এই প্রশ্নেই ঘোরাফেরা করছে বাজার। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণের জেরে সোনার দাম ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হতে পারে এবং ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।













