রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতন দেখা গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে চাহিদা কমে যাওয়া এবং উচ্চ স্তর থেকে মুনাফা তুলে নেওয়ার ফলে সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
দেশ ও বিদেশের বাজারে ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড স্তর স্পর্শ করার পর ২৩ জানুয়ারি সোনার ঊর্ধ্বগতি থমকে যায়। একই দিনে রুপার দামেও দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে সোনার চাহিদা হ্রাস এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে এই দরপতন হয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে যাওয়াও সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
দিল্লিতে সোনার দাম
রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার সকালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১০ গ্রামে ১,৫৪,৪৫০ রুপিতে নেমে আসে। একই সময়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৫৯০ রুপি ছিল। কয়েকটি সেশনে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির পর এই পতন দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে দুর্বলতা দেখা গেছে। স্পট সোনার দাম কমে আউন্সপ্রতি ৪,৮২২.৬৫ ডলারে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক বাজারে সোনার দামের গতিবিধির সরাসরি প্রভাব ঘরোয়া বাজারে পড়ে। ডলার সূচক, বন্ড ইয়িল্ড এবং ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি সোনার দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নীতিগত ঘোষণা
সোনার দামে পতনের একটি বড় কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে জানিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। তিনি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্যারিফ আরোপের পরিকল্পনাও বাতিল করেছেন।

ট্যারিফ পরিকল্পনা বাতিল
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো সমঝোতা না হলে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বর্তমানে এই ট্যারিফ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা কমেছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।
বিভিন্ন শহরে সোনার দাম
দেশের প্রধান শহরগুলিতে সোনার দামে সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৪৫০ রুপি থাকলেও মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতায় একই মানের সোনা ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩০০ রুপিতে লেনদেন হয়েছে। এই শহরগুলিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৪০ রুপি ছিল।
পুনে ও বেঙ্গালুরুতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩০০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৪০ রুপি ছিল। বিভিন্ন শহরের দামের এই পার্থক্য কর, পরিবহণ খরচ এবং স্থানীয় চাহিদার কারণে হয়ে থাকে।
অন্যান্য শহরের দর
দিল্লিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৫৯০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৪৫০ রুপি ছিল। মুম্বাইয়ে ২২ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৪০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩০০ রুপি দরে ছিল। আহমেদাবাদে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৯০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩৫০ রুপি ছিল। চেন্নাই, কলকাতা ও হায়দরাবাদে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৪০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩০০ রুপি ছিল। জয়পুর, লখনউ ও চণ্ডীগড়ে ২২ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে ১,৪১,৫৯০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে ১,৫৪,৪৫০ রুপি দরে ছিল। ভোপালে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৪১,৪৯০ রুপি এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ১,৫৪,৩৫০ রুপি ছিল।
গোল্ডম্যান স্যাক্সের মূল্য অনুমান
বর্তমান পতনের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে সোনা নিয়ে ব্রোকারেজ হাউস গোল্ডম্যান স্যাক্স তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। সংস্থাটি ডিসেম্বর ২০২৬-এর জন্য সোনার মূল্য অনুমান আউন্সপ্রতি ৫,৪০০ ডলারে উন্নীত করেছে, যা আগে ছিল আউন্সপ্রতি ৪,৯০০ ডলার। ব্রোকারেজের মতে, বৈশ্বিক নীতিগত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য যারা সোনা ধারণ করেন, তারা ২০২৬ সালে তাদের হোল্ডিং বিক্রি করার সম্ভাবনা কম রাখবেন।
রুপার দামের ওঠানামা
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। ২২ জানুয়ারি সকালে ঘরোয়া বাজারে রুপার দাম কিলোগ্রামপ্রতি ৩,৩০,১০০ রুপি ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার স্পট মূল্য বেড়ে আউন্সপ্রতি ৯৪.৯১ ডলারে পৌঁছায়। শিল্প চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে রুপার দামে এই ওঠানামা বজায় রয়েছে।










