সোনার দামে পতন ২৪ ক্যারেটে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১১০০ টাকা কমল রুপোর দাম উচ্চ স্তরে

প্রায় ১,১০০ টাকা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মুনাফা বুকিং, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিকে ঘিরে পরিবর্তিত প্রত্যাশার মধ্যে সোনার দামে চাপ দেখা গেলেও রুপোর দাম উচ্চ স্তরে লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার দেশের স্বর্ণবাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আগের ট্রেডিং সেশনে সোনার দামে ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বুকিংয়ের ফলে আজ সোনার দামে চাপ দেখা যায়।

দেশীয় বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আগের ট্রেডিং সেশনের উচ্চ স্তর থেকে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,১০০ টাকা কমেছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দামেও পতন নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রুপোর দাম উচ্চ স্তরে লেনদেন অব্যাহত রেখেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম সাম্প্রতিক উচ্চ স্তর থেকে নেমে আসার মধ্যেই সোনার এই মূল্যপতন ঘটেছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিকে ঘিরে পরিবর্তিত প্রত্যাশা বৈশ্বিক বাজারের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করেছে।

দেশীয় বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আগের সেশনের প্রায় ১,৪৭,২৮০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামের উচ্চ স্তর থেকে প্রায় ১,১০০ টাকা কমে ১,৪৬,১৭০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামের আশেপাশে নেমে এসেছে।

একইভাবে, ২২ ক্যারেট সোনার দামও কমেছে। আগের ট্রেডিং সেশনে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৩৫,০০০ টাকা থাকা ২২ ক্যারেট সোনা প্রায় ১,০১০ টাকা কমে ১,৩৩,৯৯০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে পৌঁছেছে।

১৮ ক্যারেট সোনার দামেও প্রায় ৮৩০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে ১৮ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,০৯,৬৩০ টাকা স্তরে লেনদেন করতে দেখা গেছে।

তবে শহর, গয়নার ব্র্যান্ড, মেকিং চার্জ এবং স্থানীয় করের ভিত্তিতে খুচরা বাজারে সোনার দামে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে স্থানীয় বাজারে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে দুর্বলতা দেখা গেছে। আগের ট্রেডিং সেশনে সোনা দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে প্রতি আউন্স ৪,১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠেছিল। এরপর মুনাফা বুকিংয়ের কারণে দামে প্রায় ১-২ শতাংশ পতন ঘটে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা প্রতি আউন্স প্রায় ৪,০৫২.৫০ মার্কিন ডলারের আশেপাশে লেনদেন করতে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত কোনো সম্পদের দাম দ্রুত বাড়লে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা অর্জনের জন্য তাদের হোল্ডিংয়ের একটি অংশ বিক্রি করতে পারেন। সাম্প্রতিক মূল্যপতনকেও একই ধরনের মুনাফা বুকিংয়ের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ সোনার দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার খবরের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতির দিকে থাকে। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়লে নিয়মিত সুদ আয় দেয় না এমন সম্পদ, যেমন সোনা, চাপের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থানও সোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হিসেবে রয়েছে। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশার পরিবর্তনের ফলে মার্কিন ডলার এবং বন্ড ইয়িল্ডে প্রভাব পড়তে পারে, যার প্রভাব সোনার চাহিদা ও দামের ওপরও পড়তে পারে।

সোনার দাম কমলেও রুপোর দামে শক্তিশালী প্রবণতা দেখা গেছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সেপ্টেম্বর চুক্তির রুপো প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ২,২৭,১৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল। দেশীয় খুচরা বাজারে রুপোর দাম প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ২,৩৯,৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। রুপো শুধু বিনিয়োগ ও গয়নার জন্য নয়, শিল্পক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাতু হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

Leave a comment