এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে টানা পঞ্চম দিন সংসদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। শুক্রবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে কার্যক্রম প্রভাবিত হয়। সরকার জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বলেন, সরকার এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি বিরোধীদের সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতোমধ্যেই দেশের যুবকদের আশ্বস্ত করেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও তাঁর দলের সাংসদদের আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করাতে প্রস্তুত এবং বিরোধীদের কার্যক্রম চলতে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতোমধ্যেই এই ধরনের মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, তিনি বক্তব্য রাখতে চাইলে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত বিরোধীরা আলোচনায় অংশ নেবে না। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সংসদে এসে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, মধ্যরাতে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর উচিত সংসদে শিক্ষার্থীদের ইস্যুতে বক্তব্য রাখা।
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে INDIA জোটের সাংসদরা সংসদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, এনইইটি পরীক্ষায় অনিয়ম লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। বিক্ষোভ চলাকালে বিরোধী নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধীদের অভিযোগকে রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারের অগ্রাধিকার শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও বিরোধীদের সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার যখন বিতর্কের জন্য প্রস্তুত, তখন বিরোধীদেরও সংসদে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত।
এই বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুরুতর অপরাধ এবং দোষীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এরপর সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলায় শাস্তির বিধান আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কথাও জানায়।
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভের কারণে সংসদের কার্যক্রম টানা পঞ্চম দিন প্রভাবিত হয়েছে। হট্টগোলের পর লোকসভা ২৭ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। রাজ্যসভাতেও বিরোধীরা স্লোগান দিয়ে সরকারের কাছে জবাব দাবি করে। উভয় পক্ষের অচলাবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ প্রভাবিত হচ্ছে।
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলা এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে সংসদে আলোচনা ও রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।












