সোনার দামে বড় সংশোধনের ইঙ্গিত, একদিনেই ধস নামার আশঙ্কা! রুপোর দর কি অর্ধেক হবে?

সোনার দামে বড় সংশোধনের ইঙ্গিত, একদিনেই ধস নামার আশঙ্কা! রুপোর দর কি অর্ধেক হবে?

সোনা ও রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থানের মাঝেই বাজারে অস্বস্তির সুর। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে দাম সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছলেও, পণ্যবাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন—এই ঊর্ধ্বগতি বেশিদিন টিকবে না। বরং যে কোনও দিনে বড় ধস নামতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে গয়না শিল্প পর্যন্ত।

রেকর্ড দামের শিখরে সোনা–রুপো

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি প্রায় ৪,৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে—যেখানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছুঁয়েছে প্রায় ১.৪০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, রুপোর দামে আরও বড় চমক—কেজি প্রতি দর বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.৫০ লক্ষ টাকা, যা ভারতীয় বাজারে কার্যত নজিরবিহীন।

কেন আশঙ্কা বাড়ছে সংশোধনের?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত চাহিদার ভূমিকা খুবই সীমিত। ছুটির মরসুমে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় না থাকায় কম লেনদেনেই দাম বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মাত্র কয়েকটি কার্যদিবসেই রুপোর দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে—যা স্বাভাবিক বাজার আচরণের বাইরে।

একদিনেই বড় পতনের সম্ভাবনা

এই দ্রুত উত্থানের পর সংশোধনও হতে পারে তীব্র। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস, একদিনেই রুপোর দাম ১০–১২ শতাংশ, এমনকি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। সোনার ক্ষেত্রেও বড় পতনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এক্সচেঞ্জে বিপুল ‘লং পজিশন’ তৈরি হয়েছে—লাভ তুলে নেওয়া শুরু হলেই দরপতন ত্বরান্বিত হতে পারে।

সাধারণ ক্রেতা বনাম বিনিয়োগকারীর ফারাক

দাম আকাশছোঁয়া হলেও গয়নার প্রকৃত ক্রেতা এখন কম। বাজার সূত্রে খবর, ভারত ও দুবাইয়ের একাধিক বাজারে সোনা–রুপো ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, দৈনন্দিন ব্যবহারের চাহিদা দুর্বল হলেও দাম ধরে রেখেছে গোল্ড ইটিএফ, সিলভার ইটিএফ এবং বড় ফান্ডগুলির বিনিয়োগ।

গয়না শিল্পে চাপ বাড়ছে

এই উচ্চ দামের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গয়না ব্যবসায়। বিয়ে ও উৎসবের মরসুমেও বিক্রি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। স্টকের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাজের মূলধনের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। ক্রেতারা এখন ২২ ক্যারাটের বদলে ১৮ বা ১৪ ক্যারাট সোনার দিকে ঝুঁকছেন, রুপোর ভারী সামগ্রী কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ভবিষ্যৎ কী বলছে বাজার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সংশোধন অনিবার্য। তাঁদের অনুমান, সোনার দাম ১০–১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে এবং রুপোর দর নামতে পারে ১০–২০ শতাংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রুপো এখনও নিরাপদ সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত হবে—এই মতেই একমত বাজারের বড় অংশ।

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় সংশোধনের আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ১.৪০ লক্ষ এবং রুপো ২.৫০ লক্ষ টাকায় পৌঁছলেও, একদিনেই ১০–২০ শতাংশ দরপতনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের জোরে দাম বাড়লেও সাধারণ ক্রেতার চাহিদা দুর্বল।

Leave a comment