Google Maps-এর এই ৪ সেটিংস চালু করলেই বাঁচবে পেট্রল-টোলের খরচ! কমবে জরিমানার ঝুঁকিও, জেনে নিন কীভাবে

Google Maps-এর Speedometer, Fuel-Efficient Route, Avoid Tolls ও Offline Maps ফিচার কীভাবে ব্যবহার করবেন? জেনে নিন ৪টি দরকারি সেটিংস, যা যাত্রায় সময়, জ্বালানি ও টোল খরচ বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।

রাস্তায় বেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে Google Maps-এর সাহায্য নেন কমবেশি সকলেই। কিন্তু শুধুমাত্র পথ দেখার কাজেই এই অ্যাপকে সীমাবদ্ধ রাখলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। Google Maps-এর কয়েকটি বিশেষ সেটিংস আগে থেকে চালু করে রাখলে গাড়ি চালানোর সময় জ্বালানি সাশ্রয় থেকে শুরু করে টোলের খরচ নিয়ন্ত্রণ—অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। জেনে নিন এমন চারটি ফিচার, যা আপনার রোড ট্রিপকে আরও স্মার্ট করে তুলতে পারে।

Speedometer ও Speed Limits চালু রাখুন

গাড়ি চালানোর সময় নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপরিচিত রাস্তা বা হাইওয়েতে অনেক সময় কোথায় কত গতিতে গাড়ি চালানো উচিত, তা বুঝতে অসুবিধা হয়। এই পরিস্থিতিতে Google Maps-এর Speedometer এবং Speed Limits ফিচার কাজে লাগতে পারে।

কীভাবে চালু করবেন?

Google Maps খুলে নিজের প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন। এরপর Settings > Navigation Settings-এ যান। সেখানে Speedometer এবং Speed Limits অপশন চালু করে দিন।ফিচারটি সক্রিয় থাকলে গাড়ির গতি সম্পর্কে স্ক্রিনে তথ্য দেখতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে সতর্কতা পাওয়ার সুবিধাও থাকতে পারে। তবে রাস্তার আসল গতিসীমার সাইনবোর্ড ও স্থানীয় ট্রাফিক নিয়মকেই সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

জ্বালানি বাঁচাতে বেছে নিন Fuel-Efficient Route

একই গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য একাধিক রাস্তা থাকলে সব রুটে জ্বালানি খরচ সমান হয় না। কোথাও বেশি যানজট, কোথাও বারবার ব্রেক করতে হয়, আবার কোনও রাস্তায় ওঠানামাও বেশি থাকতে পারে। এই বিষয়গুলি বিবেচনা করে Google Maps-এর fuel-efficient route অপশন তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি খরচের রুট বেছে নিতে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

Navigation Settings-এ গিয়ে Prefer fuel-efficient routes অপশনটি চালু করুন। এরপর উপলব্ধ থাকলে অ্যাপটি জ্বালানি সাশ্রয়ী রুটকে অগ্রাধিকার দেবে।তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। গাড়ির ধরন, ট্রাফিক, রাস্তার অবস্থা এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী বাস্তব সাশ্রয় পরিবর্তিত হতে পারে।

টোল এড়াতে ব্যবহার করুন Avoid Tolls

দীর্ঘ পথের যাত্রায় টোলের খরচ অনেক সময় মোট ভ্রমণ ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। আপনি যদি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে টোলমুক্ত রাস্তা ব্যবহার করতে রাজি থাকেন, তাহলে Google Maps-এর Avoid Tolls অপশন কাজে লাগতে পারে।

কীভাবে চালু করবেন?

গন্তব্য সেট করার পর Route Options-এ যান এবং Avoid Tolls অপশন নির্বাচন করুন। আপনার এলাকায় সুবিধাটি উপলব্ধ থাকলে টোলের সম্ভাব্য খরচ বা টোল-সংক্রান্ত তথ্যও দেখা যেতে পারে। ফলে যাত্রার আগে বিভিন্ন রুট তুলনা করে নিজের বাজেট অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়া সহজ হবে।তবে টোল এড়িয়ে যাওয়ার রুটে কখনও বেশি সময় বা জ্বালানি লাগতে পারে। তাই শুধু টোলের খরচ নয়, মোট যাত্রার সময় ও দূরত্বও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

নেটওয়ার্ক না থাকলেও পথ দেখাবে Offline Maps

পাহাড়ি এলাকা, গ্রামাঞ্চল বা দুর্বল নেটওয়ার্কের জায়গায় গাড়ি চালানোর সময় ইন্টারনেট সংযোগ চলে গেলে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। আগে থেকে Offline Maps ডাউনলোড করে রাখলে নির্দিষ্ট এলাকার ম্যাপ ইন্টারনেট ছাড়াও ব্যবহার করার সুবিধা পাওয়া যায়।

কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

Google Maps-এ যে এলাকা বা শহরে যাবেন সেটি সার্চ করুন। এরপর প্রোফাইল আইকনে গিয়ে Offline Maps অপশন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় এলাকার ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন।এতে নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও আগে থেকে ডাউনলোড করা এলাকার ম্যাপ ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেওয়া সহজ হবে। ফলে ভুল পথে ঘুরে অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমতে পারে।

সব ফিচার একসঙ্গে ব্যবহার করবেন?

আপনার যাত্রার ধরন অনুযায়ী Google Maps-এর এই ফিচারগুলি ব্যবহার করতে পারেন। শহরের মধ্যে গাড়ি চালালে Speedometer ও Speed Limits কাজে লাগতে পারে। দীর্ঘ রোড ট্রিপে Fuel-Efficient Route এবং Toll Options দেখে রুট বেছে নেওয়া যেতে পারে। আর নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন এলাকায় যাওয়ার আগে Offline Maps ডাউনলোড করে রাখা বিশেষভাবে উপকারী।তবে মনে রাখতে হবে, Google Maps-এর দেখানো গতিসীমা, রাস্তার পরিস্থিতি বা টোলের তথ্য সবসময় সর্বশেষ বা সম্পূর্ণ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার সাইন, স্থানীয় ট্রাফিক নিয়ম এবং সরকারি নির্দেশিকাকেই চূড়ান্ত বলে মানুন।

Google Maps শুধু রাস্তা দেখানোর অ্যাপ নয়। এর কিছু দরকারি ফিচার সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গাড়ি চালানোর সময় জ্বালানি খরচ কমানো, অপ্রয়োজনীয় টোল এড়ানো এবং ওভারস্পিডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এমনকি নেটওয়ার্ক না থাকলেও যাতে পথ হারিয়ে সময় ও জ্বালানি নষ্ট না হয়, তার জন্য রয়েছে Offline Maps-এর সুবিধা।

Leave a comment