ডুয়ার্সের ‘চকলেট ভাণ্ডার’ বিন্দু! বর্ষায় পাহাড়-ঝরনা আর রকমারি চকলেটের টানে ভিড় পর্যটকদের

ডুয়ার্সের ভুটান সীমান্তঘেঁষা বিন্দুতে পাহাড়, ঝরনা, জলঢাকা নদীর সৌন্দর্যের সঙ্গে রয়েছে রকমারি চকলেটের সম্ভার। বর্ষায় বিন্দু ভ্রমণের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

বর্ষায় ডুয়ার্সের পাহাড় যেন আরও সবুজ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঝরনার জল, জলঢাকা নদীর কলকল শব্দ আর চারপাশের অরণ্যের মনোরম পরিবেশে এই সময় পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য বিন্দু। তবে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এখানকার ‘পাহাড়ি চকলেট ভাণ্ডার’। চকলেটপ্রেমী থেকে শুরু করে ভ্রমণপিপাসু—সকলের কাছেই এই ছোট্ট বাজার যেন বাড়তি আনন্দের ঠিকানা।

ডুয়ার্সের ‘চকলেট ভাণ্ডার’ বিন্দু! বর্ষায় পাহাড়-ঝরনা আর রকমারি চকলেটের টানে ভিড় পর্যটকদের
রকমারি চকলেটের সম্ভার

বিন্দুর এই দোকানে ভুটানের জনপ্রিয় চকলেটের পাশাপাশি পাওয়া যায় নানা ধরনের ভারতীয় চকলেটও। স্ট্রবেরি থেকে শুরু করে ভুট্টার স্বাদের চকলেট—বিভিন্ন ফ্লেভারের সম্ভার রয়েছে এখানে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চকলেটের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ২ টাকা থেকে এবং ২০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের চকলেট পাওয়া যাচ্ছে।শুধু চকলেট নয়, পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের আচার, বৌদ্ধ ধর্মের মূর্তি, শোপিস এবং ঘর সাজানোর সামগ্রী। ফলে ঘুরতে এসে নিজের জন্য বা প্রিয়জনের জন্য স্মারক কেনারও সুযোগ রয়েছে।

বর্ষায় বিন্দুর সৌন্দর্য যেন অন্যরকম

ডুয়ার্স থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পৌঁছনো যায় বিন্দুতে। বর্ষার সময় পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝরনা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং জলঢাকা নদীর স্রোতের শব্দ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।প্রকৃতির এই মনোরম পরিবেশের সঙ্গে চকলেটের সম্ভার যোগ হওয়ায় বিন্দুতে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এলাকায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় খাবারেরও সুযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ডুয়ার্সের ‘চকলেট ভাণ্ডার’ বিন্দু! বর্ষায় পাহাড়-ঝরনা আর রকমারি চকলেটের টানে ভিড় পর্যটকদের
কোথা থেকে আসে চকলেট?

ব্যবসায়ী অখিলেশ গোস্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, দোকানে থাকা বেশিরভাগ চকলেট জয়গাঁ ও শিলিগুড়ি থেকে আনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আচার ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীও বিক্রি করা হয়।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা

পর্যটকদের মতে, বর্ষাকালে বিন্দুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই চোখে পড়ার মতো। পাহাড়ি জলের দৃশ্য, জলঢাকা নদীর শব্দ এবং সবুজে ঘেরা রাস্তা ধরে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মন ভালো করে দেয়। তার সঙ্গে রকমারি চকলেটের সম্ভার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।আগে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা থাকলেও নতুন রাস্তা হওয়ার ফলে যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পর্যটকদের একাংশ।

ডুয়ার্সের ‘চকলেট ভাণ্ডার’ বিন্দু! বর্ষায় পাহাড়-ঝরনা আর রকমারি চকলেটের টানে ভিড় পর্যটকদের
ভ্রমণের আগে যা মাথায় রাখবেন

বর্ষায় বিন্দু যাওয়ার পরিকল্পনা করলে পাহাড়ি রাস্তার পরিস্থিতি আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। একইসঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যাত্রা শুরু করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডুয়ার্সের ‘চকলেট ভাণ্ডার’ বিন্দু! বর্ষায় পাহাড়-ঝরনা আর রকমারি চকলেটের টানে ভিড় পর্যটকদের
ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে এবার পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ভুটান সীমান্তঘেঁষা বিন্দুর ‘পাহাড়ি চকলেট ভাণ্ডার’। রকমারি চকলেট, পাহাড়ি পণ্য, আচার ও হস্তশিল্পের সম্ভার ঘুরে দেখতে বর্ষার মরশুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।

Leave a comment