কলকাতার কাছেই ৫০০ বছরের প্রাচীন ‘গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রি’! ৮৬ শতক জুড়ে গড়ে উঠেছে আস্ত এক জঙ্গল, উইকেন্ডে ঘুরে আসুন

কলকাতার কাছেই হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরে রয়েছে ৫০০ বছরের প্রাচীন ‘গোরা তলার বটগাছ’। ৮৬ শতক জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বটগাছের ইতিহাস ও ঠিকানা জানুন।

উইকেন্ডে একটু অন্যরকম কোথাও ঘুরতে যেতে চান? তাহলে কলকাতার কাছেই লুকিয়ে থাকা এই প্রাচীন বটগাছ হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর গ্রামের ‘গোরা তলার বটগাছ’ যেন হাওড়ার শিবপুরের বিখ্যাত গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রির এক ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। কয়েকশো বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি-বন্যার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল বৃক্ষ আজও স্থানীয় মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

কোথায় রয়েছে এই প্রাচীন বটগাছ?

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে বিশালাকার এই বটগাছ। স্থানীয় বাসিন্দারা একে ‘গোরা তলার বটগাছ’ নামে চেনেন। বহু বছর ধরে প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও গাছটি এখনও নিজের বিস্তৃতি ধরে রেখেছে।

৮৬ শতক জমি জুড়ে বিস্তৃত এক বটগাছ

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই বটগাছের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি। সময়ের সঙ্গে ঝুরি মাটিতে নেমে নতুন শিকড় তৈরি করেছে। সেই শিকড় থেকেই গড়ে উঠেছে নতুন নতুন কাণ্ড। ফলে গাছটি এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে এর আসল মূল কাণ্ডটি কোথায় ছিল, তা এখন আর নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় ৮৬ শতক জমি জুড়ে এর বিস্তার বলে জানা যায়।

গ্রামের মানুষের স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে

একসময় এই বিশাল বটতলা ছিল গ্রামের মানুষের অন্যতম মিলনস্থল। সামাজিক আড্ডা থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক বনভোজন—বহু স্মৃতির সাক্ষী এই প্রাচীন বৃক্ষ। সময় বদলালেও গাছটিকে ঘিরে মানুষের টান আজও অটুট। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই বিশাল বটগাছ দেখতে রামেশ্বরপুরে আসেন।

বটগাছের নিচে রয়েছে পীরের মাজার

এই প্রাচীন বৃক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় লোকবিশ্বাসও। বটগাছের নিচে রয়েছে এক পীরের মাজার। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, ধর্মপ্রচারক পীর গোরাচাঁদ এই এলাকায় সাধনা করেছিলেন। সেই সূত্রেই জায়গাটির নাম ‘গোরাতলা’ হয়েছে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। আজও বহু মানুষ এই স্থানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রকৃতি ও লোকঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন

বটগাছটির বিশাল বিস্তারকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানা গল্প ও কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিতে এই গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, বরং এলাকার অতীতের জীবন্ত সাক্ষী। প্রকৃতির বিস্ময়, স্থানীয় ইতিহাস এবং মানুষের বিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে গোরা তলার বটগাছটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দর্শনীয় স্থান।

কলকাতার কাছেই হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর গ্রামে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এক বিশাল বটগাছ। স্থানীয়দের কাছে ‘গোরা তলার বটগাছ’ নামে পরিচিত এই বৃক্ষটির বয়স প্রায় ৫০০ বছর বলে দাবি করা হয়। প্রায় ৮৬ শতক জমি জুড়ে বিস্তৃত এই বটগাছ ঝুরি থেকে একের পর এক নতুন শিকড় ও কাণ্ড তৈরি করে আজ কার্যত একটি ছোট জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। প্রকৃতি, ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের মেলবন্ধনে এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান।

 

Leave a comment