বর্ষাকালে বাজারে পেয়ারার সমারোহ দেখা গেলেই অনেকের জিভে জল আসে। বিশেষ করে ডাঁসা পেয়ারার টুকরোর ওপর বিটনুন ও লাল লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে খাওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। কিন্তু এই সুস্বাদু অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
কেন আপত্তি চিকিৎসকের?
চিকিৎসক প্রতিম সেনগুপ্তের মতে, পেয়ারা যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, তার ওপর বিটনুন বা অতিরিক্ত মশলা ছড়িয়ে খেলে ফলটির প্রাকৃতিক উপকারিতা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। স্বাদ বাড়লেও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পেয়ারা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত নুন বা মশলা এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
অতিরিক্ত নুন খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কাঁচা নুন খাওয়ার অভ্যাস থাকলে—
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
শরীরে লবণ ও তরলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
গরমের সময় ডিহাইড্রেশন ও শারীরিক অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই অভ্যাস এড়ানো উচিত।
পেয়ারা কেন সুপারফুড?
পেয়ারা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ভিটামিন কে, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, কপার ও ম্যাঙ্গানিজের ভালো উৎস। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমে সাহায্য করতে এবং শরীরের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি পেয়ারা খেতে পারবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১২ থেকে ২৪-এর মধ্যে। এছাড়া ১০০ গ্রাম পেয়ারায় শর্করার পরিমাণও কম। তাই পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয় এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই শ্রেয়।
কীভাবে পেয়ারা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে কোনও অতিরিক্ত নুন, চাট মশলা বা লঙ্কার গুঁড়ো ছাড়াই পেয়ারা খেলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে শরীরে পৌঁছায়। এতে শরীর পর্যাপ্ত ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল পায়।
ডাঁসা পেয়ারার সঙ্গে বিটনুন ও লঙ্কার গুঁড়ো খাওয়া বহু মানুষের প্রিয় অভ্যাস। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস পেয়ারার আসল পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে পেয়ারা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি।











