Guess the Actor: বলিউডে এমন অনেক অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজরে এসেছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে আয়ুষ্মান খুরানার পথটা নিঃসন্দেহে আলাদা। গতানুগতিক নায়কোচিত চরিত্রের বদলে তিনি বরাবর এমন গল্প ও চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যেগুলি নিয়ে মূলধারার ছবিতে খুব একটা ঝুঁকি নিতে দেখা যায়নি। আর সেই সিদ্ধান্তই ধীরে ধীরে তাঁকে হিন্দি ছবির অন্যতম পরিচিত মুখ করে তোলে।

প্রথম ছবিতেই একেবারে অন্যরকম চরিত্র
২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ ছবির হাত ধরে বলিউডে পা রাখেন আয়ুষ্মান খুরানা। ছবিতে তাঁর চরিত্র ছিল একজন স্পার্ম ডোনারের। সেই সময়ের মূলধারার হিন্দি সিনেমার তুলনায় বিষয়টি ছিল যথেষ্ট সাহসী এবং ব্যতিক্রমী।অভিষেকের ছবিতেই এমন স্পর্শকাতর সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি চরিত্রে অভিনয় করে আয়ুষ্মান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, শুধু প্রচলিত নায়ক হওয়ার দৌড়ে তিনি নেই। নতুন ধরনের গল্পের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
‘ভিকি ডোনার’-এর পরেই শুরু নতুন পথচলা
ভিকি ডোনার’ দর্শকদের কাছে ভালো সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি আয়ুষ্মানের অভিনয়ও প্রশংসিত হয়। প্রথম ছবির সাফল্য তাঁকে পরবর্তী সময়ে আরও সাহসী চিত্রনাট্য বেছে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়।এরপর ‘দম লাগা কে হাইশা’, ‘বেরেলি কি বরফি’ এবং ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিগুলির গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, সামাজিক সমস্যা এবং দৈনন্দিন বাস্তবতার নানা দিক উঠে এসেছে।
চরিত্র বাছাইয়েই আলাদা আয়ুষ্মান
আয়ুষ্মানের কেরিয়ারের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর চরিত্র নির্বাচন। শুধুমাত্র বড় বাজেট বা প্রচলিত বাণিজ্যিক ছবির দিকে না গিয়ে তিনি এমন বিষয়কে বেছে নিয়েছেন, যা একইসঙ্গে বিনোদন এবং সামাজিক বার্তা দিতে পারে।তাঁর ছবিতে কমেডির সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতার মেলবন্ধনও বারবার দেখা গিয়েছে। ফলে অভিনেতা হিসেবে তাঁর একটি নিজস্ব ঘরানা তৈরি হয়।

২০১৮—যে বছর বদলে গেল সব হিসেব
আয়ুষ্মান খুরানার কেরিয়ারে ২০১৮ সাল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ওই বছর মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘আন্ধাধুন’ এবং ‘বাধাই হো’।দুটি ছবির গল্প ও চরিত্র একেবারেই আলাদা। ‘আন্ধাধুন’-এ রহস্য-থ্রিলারের আবহে তাঁর অভিনয় দর্শকদের চমকে দেয়। অন্যদিকে ‘বাধাই হো’-তে একেবারে ভিন্ন ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতির চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।দুটি ছবিরই ব্যাপক সাফল্য আয়ুষ্মানকে শুধু প্রশংসিত অভিনেতা নয়, বক্স অফিসে নিজের ছবি টানতে সক্ষম তারকা হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করে।
মাত্র ৬ বছরেই বড় সাফল্য
২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে যাত্রা শুরু করার মাত্র ছয় বছরের মধ্যে, ২০১৮ সালে ‘আন্ধাধুন’ ও ‘বাধাই হো’-এর মতো সফল ছবি আয়ুষ্মানের কেরিয়ারে বড় বাঁক এনে দেয়।বিশেষত্ব হল, দুটি ছবির চরিত্র একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। এর ফলে বলিউডে তাঁর নিজস্ব জায়গা আরও শক্তিশালী হয়।
জন্মদিনে স্ত্রী তাহিরার বিশেষ পোস্ট
১৪ সেপ্টেম্বর আয়ুষ্মান খুরানার জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তাঁর স্ত্রী, লেখিকা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তাহিরা কাশ্যপও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীকে শুভেচ্ছা জানান।তাহিরা তাঁদের পুরনো দিনের একটি থ্রোব্যাক ছবিও শেয়ার করেন। ছবিটি তাঁদের সম্পর্কের শুরুর সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে। জন্মদিনের শুভেচ্ছার পাশাপাশি সেই পোস্টে উঠে আসে তাঁদের একসঙ্গে কাটানো পুরনো দিনের আবেগঘন স্মৃতি।

বড় তারকা হওয়ার আলাদা সূত্র
আয়ুষ্মানের কেরিয়ার যেন প্রমাণ করে দিয়েছে, বলিউডে সাফল্যের জন্য সবসময় বড় বাজেট, বড় প্রযোজনা সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠিত তারকার প্রয়োজন হয় না।ভালো গল্প, ব্যতিক্রমী চরিত্র এবং অভিনেতার দক্ষ অভিনয়—এই তিনের সমন্বয়ও দর্শকদের হলমুখী করতে পারে। নিজের কেরিয়ারে বারবার সেই পথেই হেঁটেছেন আয়ুষ্মান। আর তাই আজও তিনি হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিত।

প্রথম ছবিতেই ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তারপর একের পর এক অন্যরকম গল্প বেছে নিয়ে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০১২ সালে অভিষেকের মাত্র ছয় বছর পর ২০১৮ সালে পরপর দুই সফল ছবি তাঁকে প্রতিষ্ঠিত তারকায় পরিণত করে। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক আয়ুষ্মান খুরানার সেই অনন্য বলিউড যাত্রা।








