গুরু পূর্ণিমায় সাধারণত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা জানান পড়ুয়ারা। কিন্তু ধূপগুড়ির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল একেবারেই অন্য ছবি। সেখানে গুরুর আসনে বসানো হল মায়েদের। খুদে পড়ুয়ারা নিজেদের মায়ের পা জল দিয়ে ধুইয়ে দিল, হাতজোড় করে প্রণাম করল, নিজের হাতে পায়েস খাওয়াল এবং চাইল আশীর্বাদ। পাল্টা মায়েরাও সন্তানদের পায়েস খাইয়ে আশীর্বাদ করেন। এই দৃশ্যে আবেগে ভেসে ওঠে গোটা বিদ্যালয়।
গুরুর আসনে মা, অভিনব উদ্যোগ ধূপগুড়ির স্কুলে
গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া বটতলি স্বর্ণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ অনুষ্ঠানের। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়, একজন শিশুর জীবনে প্রথম শিক্ষক শুধু স্কুলের শিক্ষক নন—তার জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক হলেন মা।সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই এদিন মায়েদের গুরুর আসনে বসিয়ে সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মায়ের পা ধুইয়ে শ্রদ্ধা খুদে পড়ুয়াদের
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পড়ুয়ারা প্রথমে জল দিয়ে নিজেদের মায়ের পা ধুয়ে দেয়। এরপর হাতজোড় করে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণাম করে এবং মায়েদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে।এরপর আসে আরও আবেগঘন মুহূর্ত। পড়ুয়ারা নিজেদের হাতে মায়েদের পায়েস খাইয়ে মিষ্টিমুখ করায়। মায়েরাও পাল্টা স্নেহভরে সন্তানদের পায়েস খাইয়ে আশীর্বাদ করেন।এই দৃশ্য ঘিরে বিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হয় আবেগের পরিবেশ। অনেকের চোখেই দেখা যায় আনন্দের জল।
শুধু পড়াশোনা নয়, মূল্যবোধের শিক্ষাও
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিক্ষার অর্থ শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা নয়। একজন শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, বাবা-মা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার শিক্ষাও অত্যন্ত জরুরি।এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট থেকেই সন্তানদের মধ্যে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং মানবিকতার বোধ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিভাবকদেরও প্রশংসা
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক জানান, বর্তমান সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, শিশুদের শুধু পড়াশোনায় ভালো করলেই হবে না, তাদের মধ্যে মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা এবং মানবিক মূল্যবোধও তৈরি করতে হবে।তাই গুরু পূর্ণিমায় বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে মনে করেন।
প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য কী?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, পড়ুয়াদের শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষায় আটকে না রেখে কীভাবে পরিবার ও সমাজের মানুষকে সম্মান করতে হয়, সেই শিক্ষাও দেওয়া দরকার।তাঁদের মতে, গুরু পূর্ণিমা শুধু স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানানোর দিন নয়। বাড়ির মা-বাবাও সন্তানের জীবনের প্রথম গুরু। সেই উপলব্ধি থেকেই প্রায় সমস্ত পড়ুয়াকে অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিশেষ খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।
গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ নিল ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া বটতলি স্বর্ণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক ও গুরু হিসেবে মায়েদের সম্মান জানাল পড়ুয়ারা। মায়ের পা ধুইয়ে প্রণাম, হাতে পায়েস খাওয়ানো এবং আশীর্বাদ নেওয়ার এই অনুষ্ঠানে আবেগঘন হয়ে ওঠে গোটা স্কুল চত্বর।












