ক্যানসার এমন একটি রোগ, যার ক্ষেত্রে যত দ্রুত রোগ ধরা পড়ে, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের প্রজনন অঙ্গকে প্রভাবিত করে এমন গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসারের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর আগে থেকেই কিছু সতর্কবার্তা দেয়। কিন্তু অনেকেই সেই লক্ষণগুলিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। তাই কোন কোন উপসর্গকে গুরুত্ব দিতে হবে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসার কী?
গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসার বলতে নারীদের প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে জরায়ুমুখ (Cervix), জরায়ু (Uterus), ডিম্বাশয় (Ovary), যোনি (Vagina) এবং ভালভা (Vulva)-র ক্যানসার। প্রতিটি ক্যানসারের লক্ষণ কিছুটা আলাদা হলেও কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে।
ঋতুস্রাবে এই পরিবর্তন হলে অবহেলা করবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘদিন ধরে রক্তপাত চলতে থাকা অথবা দুই মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত হওয়া কখনওই স্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে মেনোপজের পরে সামান্য রক্তপাতও গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ
ডিম্বাশয়ের ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাড়তে থাকে। পেট বারবার ফুলে যাওয়া, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া, তলপেট বা পেলভিসে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন—এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে পরীক্ষা করানো উচিত।

জরায়ুমুখ ও জরায়ুর ক্যানসারের সতর্কবার্তা
জরায়ুমুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ। যৌনমিলনের পরে রক্তপাত, অস্বাভাবিক যোনি স্রাব, সহবাসের সময় ব্যথা এবং মেনোপজের পরে রক্তপাত এই ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। একইভাবে জরায়ুর ক্যানসারেও অস্বাভাবিক রক্তপাত অন্যতম প্রধান সতর্কবার্তা।
ভালভা ও যোনির ক্যানসারে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
যৌনাঙ্গের বাইরের অংশে দীর্ঘদিন চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ব্যথা, ঘা, অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড, ত্বকের রং বা গঠনে পরিবর্তন—এসব উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এগুলি ভালভা বা যোনির ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
আরও যেসব উপসর্গে সতর্ক হওয়া দরকার
শুধু রক্তপাতই নয়, দীর্ঘদিন তলপেটে ব্যথা, কোমরের নীচের অংশে অস্বস্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, সহবাসে ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক যোনি স্রাবও গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। এসব সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্যাপ টেস্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী HPV টেস্ট করার পরামর্শ দেন। HPV ভ্যাকসিন জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

মহিলাদের মধ্যে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসারের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। জরায়ুমুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, যোনি ও ভালভার ক্যানসারের বেশ কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলি সময়মতো চিহ্নিত করতে পারলে চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হতে পারে। ঋতুস্রাবের অস্বাভাবিকতা, মেনোপজের পর রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক স্রাব—এসব উপসর্গকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।








