উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে গভীর রাতে আচমকা কালবৈশাখীর তাণ্ডব নেমে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল চেনা চিত্র। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য।
মাঝরাতে তাণ্ডব, আতঙ্কে গ্রামবাসী
বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুবের ঘেরি এলাকায় রাতের অন্ধকারে আচমকা ঝড় শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাসিন্দাদের। অনেকেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন।
গাছ উপড়ে ভাঙল ঘরবাড়ি
ঝড়ের তীব্রতায় একাধিক বড় গাছ উপড়ে পড়ে। তার মধ্যে একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে একটি বাড়ির উপর, ফলে ঘরটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু কাঁচা ও টিনের ঘরও ঝড়ের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়েছে।
গবাদিপশুর ক্ষতি, চরম বিপাকে পরিবার
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে গবাদিপশুরও। গাছ ভেঙে গোয়ালঘরের উপর পড়ায় একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি একাধিক পরিবারের ছাগল ও অন্যান্য পশুও মারা গেছে বলে জানা গিয়েছে। এতে আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন গ্রামবাসীরা।
মাথার উপর ছাদ নেই, খোলা আকাশেই রাত
ঝড়ের পর বহু পরিবার তাদের মাথার উপর ছাদ হারিয়ে ফেলেছে। কেউ কেউ অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকছেন, আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছয়নি।
বাসিন্দাদের আতঙ্কের অভিজ্ঞতা
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষণ সরকার জানান, “ঝড়টা এতটাই হঠাৎ ও তীব্র ছিল যে কিছু বোঝার আগেই গাছ ভেঙে ঘরের উপর পড়ে। কোনওরকমে প্রাণে বাঁচতে পেরেছি।” এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
Hasnabad-এ ভয়াবহ কালবৈশাখীর দাপটে ভেঙে পড়েছে একাধিক বাড়ি, উপড়ে গেছে গাছ, প্রাণ হারিয়েছে গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি—অবিলম্বে সরকারি সাহায্য।










