Heart Attack Symptoms: শরীরের একেবারে নিচের অংশে দেখা দেওয়া কিছু পরিবর্তনও কখনও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে গোড়ালি, পা বা পেট ফুলে যাওয়া যদি বারবার হয় এবং তার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। তবে মনে রাখতে হবে, গোড়ালি ফোলা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়—এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
গোড়ালি ফুলে যাওয়ার সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক কী?
হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে শরীরে তরল জমে যেতে পারে। বিশেষ করে পা, গোড়ালি, উরু বা পেটের নিচের অংশে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।হার্ট ফেলিয়োরের ক্ষেত্রে এই ধরনের ফোলাভাবকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এডিমা বলা হয়। তাই গোড়ালি ফুলে যাওয়ার সঙ্গে অন্য উপসর্গও থাকলে কারণটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোন কোন লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে সতর্ক হবেন?
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগে, কিংবা সামান্য কাজেই আগের তুলনায় বেশি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে বিষয়টি নজরে রাখা দরকার। হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করতে না পারলে এমন দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
শ্বাস নিতে সমস্যা
অল্প হাঁটাচলাতেই হাঁপিয়ে যাওয়া, সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হওয়া বা রাতে শুয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা—এসব হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ফুসফুসে তরল জমলে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে পারে।
পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা অন্য কিছু কারণেও পা ফুলতে পারে। তবে অস্বাভাবিকভাবে বারবার গোড়ালি ও পা ফুলে গেলে, বিশেষ করে দু’পায়েই ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুক ধড়ফড় করা
হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুকের ভিতর দ্রুত ধুকপুক করার অনুভূতি বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনও কখনও হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন উপসর্গ বারবার হলে পরীক্ষা করানো জরুরি।
ক্ষুধা কমে যাওয়া ও বমি বমি ভাব
হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তপ্রবাহে পরিবর্তন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাবে ক্ষুধামান্দ্য, পেটের অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
মাথা ঝিমঝিম বা বিভ্রান্তি
মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন না পৌঁছলে দুর্বলতা, মনোযোগে সমস্যা বা বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ এমন পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হার্ট অ্যাটাক আর হার্ট ফেলিয়োর কি একই?
না। হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে বাধা তৈরি হওয়ার কারণে ঘটে। অন্যদিকে হার্ট ফেলিয়োর বলতে বোঝায়, হৃদযন্ত্র শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না।হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃদযন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে হার্ট ফেলিয়োরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দু’টি বিষয় এক নয়, যদিও তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে।
কখন জরুরি চিকিৎসা দরকার?
গোড়ালি ফোলার পাশাপাশি যদি বুকে চাপ বা ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি, চোয়াল বা হাতে ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।বিশেষ করে বুকের ব্যথা বা চাপ কয়েক মিনিট ধরে থাকলে কিংবা বারবার ফিরে এলে সেটিকে সাধারণ গ্যাস বা বদহজম ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
গোড়ালি ফুললে কী করবেন?
প্রথমেই নিজে থেকে কোনও ওষুধ শুরু না করে কারণটি বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। ফোলাভাব বারবার হচ্ছে কি না, দুই পায়েই হচ্ছে কি না এবং এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি রয়েছে কি না—এসব লক্ষ করুন।প্রয়োজনে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, রক্তচাপ, ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা বা ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো পরীক্ষা করতে পারেন।
গোড়ালি বা পা ফুলে যাওয়াকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার কারণে এমনটা হলে তা হার্ট ফেলিয়োরের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় বা দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।











