ফেব্রুয়ারির শেষেই যখন পারদ ছুঁয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখনই স্পষ্ট— ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম স্বাভাবিক পথে হাঁটছে না। India Meteorological Department ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, মার্চ থেকেই শুরু হতে পারে তীব্র তাপপ্রবাহ। উপরন্তু, ‘এল নিনো’ ফের সক্রিয় হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফেব্রুয়ারিতেই তাপমাত্রার লাফ
রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশায় ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ৩৫–৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলায় পারদ উঠেছে ৩৮.৫ ডিগ্রিতে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪–৬ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের এমন আগাম আগমন ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।
মার্চ–মে: তাপপ্রবাহের ত্রাস
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অংশেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ‘হিটওয়েভ ডে’ থাকতে পারে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, গঙ্গীয় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণাংশ এবং পশ্চিমের গুজরাট ও রাজস্থান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এই অঞ্চলগুলি প্রাকৃতিকভাবেই তাপপ্রবাহ-সংবেদনশীল বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

‘এল নিনো’র প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণতার পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া ‘এল নিনো’ ফের জুলাইয়ের পর সক্রিয় হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অতীতে এল নিনোর বছরে ভারত ভয়াবহ গরমের সাক্ষী থেকেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্থলভাগে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।
বৃষ্টির ঘাটতি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস— যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি বেশি এবং ১৯০১ সালের পর পঞ্চম সর্বোচ্চ। গত দুই মাসে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে কোনও শীতপ্রবাহ রেকর্ড হয়নি।Mrutyunjay Mohapatra জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির বৃষ্টি ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন এবং ১৯০১ সালের পর তৃতীয় সর্বনিম্ন। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সংখ্যায় বেশি হলেও সেগুলি কার্যকর হয়নি, ফলে বৃষ্টিপাত কমেছে।

১৫ ফেব্রুয়ারির পর তাপমাত্রার তীব্র উত্থান
১৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই দিনে ও রাতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গুজরাট, রাজস্থান ও উপকূলীয় কর্ণাটকের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫–৮ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। পারদ ঘুরপাক খাচ্ছে ৩০–৩৭ ডিগ্রির মধ্যে— যা ফেব্রুয়ারির জন্য অস্বাভাবিক।

ফেব্রুয়ারি মাসেই গরমের রেকর্ড ভেঙেছে দেশ। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা— জুলাইয়ের পর ফের সক্রিয় হতে পারে ‘এল নিনো’। মার্চ থেকে মে— তিন মাস জুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা। পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যে পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ।








