সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম পা ফেলতেই যদি গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেকেই এই সমস্যায় গরম সেঁক দেন, আবার কেউ ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি খোঁজেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার ধরন বুঝে চিকিৎসা করাই সবচেয়ে জরুরি। টেকনো ডামা হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন ডা. গৌতম গুপ্ত জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালেই এই যন্ত্রণা অনেকটাই কমানো যায়।
কেন হয় গোড়ালির ব্যথা?
গোড়ালির ব্যথার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
দীর্ঘদিন ভুল বা ক্ষয়প্রাপ্ত জুতো ব্যবহার
জুতোর আর্চ সাপোর্ট ও কুশনিংয়ের অভাব
অতিরিক্ত ওজন
দীর্ঘক্ষণ শক্ত মেঝেতে দাঁড়িয়ে কাজ করা
গোড়ালিতে আঘাত বা লিগামেন্টে টান
ইউরিক অ্যাসিড বা গেঁটেবাত
হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম শুরু করা
কোন রোগে সবচেয়ে বেশি হয় এই সমস্যা?
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস
পায়ের তলার টিস্যুতে প্রদাহ হলে সকালে প্রথম পা ফেলতেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এটি গোড়ালির ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ।
ক্যালকেনিয়াল স্পার (Heel Spur)
গোড়ালির হাড়ে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে কাঁটার মতো অংশ তৈরি হলে টিস্যুর উপর চাপ পড়ে এবং ব্যথা বাড়ে।
অ্যাকিলিস টেন্ডিনাইটিস
গোড়ালি ও পায়ের পেশির সংযোগকারী টেন্ডনে প্রদাহ বা অতিরিক্ত চাপ পড়লে এই সমস্যা দেখা দেয়। খেলোয়াড় বা নিয়মিত দৌড়নোর অভ্যাস থাকলে ঝুঁকি বেশি।
ঠান্ডা না গরম সেঁক—কোনটি বেশি কার্যকর?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, নতুন বা প্রদাহজনিত গোড়ালির ব্যথায় বরফের সেঁক (Cold Compress) বেশি উপকারী।
দিনে ৩ থেকে ৪ বার
প্রতিবার ১৫–২০ মিনিট
সরাসরি বরফ না লাগিয়ে কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করুন
প্রদাহ কমাতে ঠান্ডা সেঁক কার্যকর হলেও, দীর্ঘদিনের ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরম সেঁক বা অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কেমন জুতো পরলে গোড়ালি থাকবে সুরক্ষিত?
গোড়ালির ব্যথা কমাতে জুতো বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো আর্চ সাপোর্ট থাকতে হবে
গোড়ালিতে নরম কুশনিং থাকা উচিত
খুব উঁচু হিল বা একেবারে ফ্ল্যাট জুতো এড়িয়ে চলুন
ক্ষয়ে যাওয়া বা ঢিলা জুতো ব্যবহার করবেন না
আর কী কী করলে উপকার মিলবে?
নিয়মিত হিল স্ট্রেচিং ও পায়ের ব্যায়াম করুন
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিন
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ঘরোয়া পরিচর্যা করার পরও যদি ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ব্যথা না কমে, বরং বাড়তে থাকে বা হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করা হতে পারে।
গোড়ালির ব্যথা এখন সব বয়সের মানুষের কাছেই পরিচিত সমস্যা। ভুল জুতো, অতিরিক্ত ওজন, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস, হিল স্পার বা অ্যাকিলিস টেন্ডিনাইটিসের মতো কারণেই বাড়তে পারে এই যন্ত্রণা। অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের মতে, সঠিক জুতো, বরফের সেঁক, স্ট্রেচিং এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলেই অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা কমানো সম্ভব।













