বর্ষা এলেই বাঙালির মনে জেগে ওঠে একটাই অপেক্ষা—কবে বাজারে উঠবে টাটকা ইলিশ! কিন্তু চলতি মরশুমের শুরুতেই সেই আশায় যেন ধাক্কা খেলেন ইলিশপ্রেমীরা। ব্যান পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বহু ট্রলার সমুদ্রে নামলেও এখনও দিঘার উপকূলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি। ফলে মাছের বাজার থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীদের ঘরে এখন একটাই প্রশ্ন—এ বছরও কি রুপোলি শস্য অধরাই থেকে যাবে?
সমুদ্রে ট্রলার, তবুও জালে নেই প্রত্যাশিত ইলিশ
১৫ জুন থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অনুমতি মিলতেই পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের হাজার হাজার ট্রলার ও যান্ত্রিক নৌকা সমুদ্রে পাড়ি দেয়। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ইলিশের ভালো মরশুমের আশা করেছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনও বাস্তবে রূপ পায়নি। অধিকাংশ ট্রলারই ফিরছে খুব সীমিত মাছ নিয়ে।
টানা কয়েক বছরের খরার স্মৃতি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
গত দুই-তিন বছর ধরেই দিঘা উপকূলে ইলিশের উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা এবারও নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের। অনেকেই বলছেন, মরশুমের শুরুতেই যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটেও।
জ্বালানির খরচ বেড়েছে, বাড়ছে লোকসানের আশঙ্কা
চলতি বছরে ডিজেলসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রে মাছ ধরতে আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় সেই খরচও তুলতে পারছেন না বহু ট্রলার মালিক। ফলে আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে উপকূলের মৎস্যজীবী পরিবারগুলির উপর।
ইলিশের অপেক্ষায় বাজার, চোখ আকাশের দিকেও
দিঘার একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ীর মতে, বর্ষা আরও সক্রিয় হলে এবং সমুদ্রের পরিবেশ অনুকূলে এলে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাঁদের আশা, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইলিশের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
দাম কি ছুঁতে পারে নতুন উচ্চতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে ইলিশের দাম স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হবে। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এ বছরও ইলিশ কেনা কিছুটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, যদি না আগামী কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ ধরা পড়ে।
১৫ জুন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই হাজার হাজার ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু দিঘা উপকূলে এখনও প্রত্যাশামতো ইলিশের দেখা মেলেনি। ফলে উদ্বেগে মৎস্যজীবী থেকে ব্যবসায়ী—সবাই। যদি আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে বাজারে ইলিশের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।












