বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতনতার এক প্রশংসনীয় নজির গড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা মহিউদ্দিন গাজী। নিজের বাড়িতে বিরল ও সংরক্ষিত প্রজাতির একটি তক্ষক দেখতে পেয়ে সেটিকে ক্ষতি না করে সরাসরি পুলিশে খবর দেন তিনি।

বাড়িতে বিরল অতিথি, আতঙ্ক নয় সচেতনতার পরিচয়
হিঙ্গলগঞ্জের উত্তর বলতলা গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন গাজী নিজের বাড়িতে হঠাৎ একটি বড় আকারের তক্ষক দেখতে পান। সাধারণত এই ধরনের প্রাণীকে ঘিরে ভয় বা কুসংস্কার কাজ করলেও তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন। প্রাণীটিকে নিরাপদে রেখে দ্রুত হিঙ্গলগঞ্জ থানায় খবর দেন। তাঁর এই পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত বিরল প্রাণীটির জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
পুলিশি তৎপরতায় সফল উদ্ধার অভিযান
খবর পাওয়ার পরই হিঙ্গলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাহুল হালদারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সতর্কতার সঙ্গে তক্ষকটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় প্রাণীটির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে।
বনদফতরের হাতে তুলে দেওয়া হল তক্ষক
উদ্ধারের পর রামপুর বনদফতরের আধিকারিকদের খবর দেওয়া হয়। বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণীটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তক্ষকটির ওজন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম এবং দৈর্ঘ্য প্রায় এক থেকে দেড় ফুট। বর্তমানে প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাচারের আশঙ্কায় দ্রুত পদক্ষেপ
তক্ষক একটি অত্যন্ত বিরল ও সংরক্ষিত সরীসৃপ। আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রাণীকে ঘিরে অবৈধ পাচারের একাধিক অভিযোগ অতীতে সামনে এসেছে। সেই কারণে উদ্ধার হওয়ার পর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত বনদফতরের হাতে প্রাণীটিকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পাচারচক্রের নজরে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যেত না।
পরিবেশ সংরক্ষণে উদাহরণ হয়ে উঠল হিঙ্গলগঞ্জ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহিউদ্দিন গাজীর সচেতনতা এবং পুলিশ-বনদফতরের দ্রুত সমন্বয় পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিরল প্রাণী দেখলেই তাকে ক্ষতি করা বা আটকে রাখার পরিবর্তে প্রশাসনকে খবর দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার, এই ঘটনা তারই বাস্তব উদাহরণ।

বনদফতরের বার্তা
বনদফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণ মানুষের শত্রু নয়। কোনও বিরল বা অচেনা প্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা বনদফতরকে জানানো উচিত। এতে যেমন প্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব হয়, তেমনই মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিরল প্রজাতির তক্ষক। প্রাণীটিকে দেখে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশকে খবর দেন বাড়ির মালিক। পরে পুলিশ ও বনদফতরের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার করে নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবেশপ্রেমী মহলে এই ঘটনাকে দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











