Historical Tourist Spot: কলকাতার কাছেই লুকিয়ে ইতিহাসের প্রাচীন শহর! ‘বাংলার হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো’ চন্দ্রকেতুগড়ে একদিনেই ঘুরে আসুন

কলকাতার কাছে উত্তর ২৪ পরগনার চন্দ্রকেতুগড় বা খনা-মিহিরের ঢিপি ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা। জানুন চন্দ্রকেতুগড়ের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং কীভাবে যাবেন।

কলকাতার ব্যস্ত শহুরে জীবনের বাইরে একদিনের জন্য ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে চান? তাহলে আপনার গন্তব্য হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনার চন্দ্রকেতুগড়। দেগঙ্গা ও বেড়াচাঁপা এলাকার কাছে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে ঘিরে রয়েছে বহু পুরনো নগরসভ্যতার ইতিহাস। মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া নানা প্রত্ননিদর্শন এই জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। তাই ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থাকলে চন্দ্রকেতুগড় হতে পারে আপনার পরবর্তী ডে-ট্রিপের আদর্শ ঠিকানা।

কোথায় রয়েছে চন্দ্রকেতুগড়? কীভাবে যাবেন?

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত থেকে চন্দ্রকেতুগড়ে পৌঁছনো তুলনামূলক সহজ। বারাসত থেকে দেগঙ্গার দিকে এগিয়ে বেড়াচাঁপা মোড়ে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে হাঁড়োয়া রোড ধরে কিছুটা এগোলেই চন্দ্রকেতুগড় বা ‘খনা-মিহিরের ঢিপি’ এলাকায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ফলে কলকাতা ও শহরতলি থেকে পরিকল্পনা করে একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব।

ইতিহাসের পাতায় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গা?

চন্দ্রকেতুগড়ের নামের উৎস নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক ধারণা ও স্থানীয় জনশ্রুতি। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে যে ছোট ছোট নগরকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, চন্দ্রকেতুগড় তার মধ্যে অন্যতম হতে পারে।প্রাচীনকালে এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর বা বন্দরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল বলেও অনুমান করা হয়। সেই কারণেই এই এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

মাটির নিচ থেকে মিলেছে অমূল্য প্রত্নসম্পদ

চন্দ্রকেতুগড়ে একাধিক পর্যায়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানো হয়েছে। খননকার্যের মাধ্যমে এখান থেকে পোড়ামাটির ফলক ও কারুকার্য, প্রাচীন মুদ্রা, পাথর ও কাঠের সামগ্রী, হাতির দাঁতের তৈরি বস্তু এবং বিভিন্ন ধাতব সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার কথা জানা যায়।প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের বৈচিত্র্য থেকেই এই অঞ্চলে একসময়ে উন্নত নগরজীবন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রাক-মৌর্য যুগ থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলের ইতিহাস বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

‘বাংলার হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো’ কেন বলা হয়?

চন্দ্রকেতুগড়ের প্রাচীন নগরসভ্যতার ধ্বংসাবশেষ এবং মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রত্নসম্পদের কারণে অনেকেই এই স্থানকে ‘বাংলার হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও এই তুলনা মূলত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তবুও এই অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্ভাবনা যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে।এখনও এই এলাকার মাটির নিচে আরও বহু অজানা ইতিহাস লুকিয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হয়।

‘খনা-মিহিরের ঢিপি’ ঘিরে রয়েছে জনশ্রুতি

চন্দ্রকেতুগড়ের সঙ্গে খনা ও মিহিরের নামও জড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় বিশ্বাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই এলাকায় তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি স্থান বা ঢিপি রয়েছে, যা বর্তমানে ‘খনা-মিহিরের ঢিপি’ নামে পরিচিত। যদিও এই সংক্রান্ত বহু তথ্যই ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবুও স্থানীয় সংস্কৃতি ও লোককথায় এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য কেন আদর্শ গন্তব্য?

চন্দ্রকেতুগড়ে গেলে একদিকে যেমন প্রাচীন নগরসভ্যতার ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়, তেমনই বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ মেলে। এলাকায় থাকা মিউজিয়ামও ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে।তবে এটি মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থান হওয়ায় ঘোরার সময় স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং সংরক্ষিত নিদর্শনের কোনও ক্ষতি না করার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বেড়াচাঁপা সংলগ্ন চন্দ্রকেতুগড় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। ‘খনা-মিহিরের ঢিপি’ নামেও পরিচিত এই এলাকায় খননকার্যে উঠে এসেছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন। প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, প্রত্নসামগ্রী এবং ঐতিহাসিক কাহিনির টানে একদিনের সফরে ঘুরে আসতে পারেন এই অজানা ইতিহাসের ঠিকানায়।

Leave a comment