সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে স্বনির্ভরতার উজ্জ্বল উদাহরণ গড়লেন সুজাতা সাউ। ছোটবেলার আঁকাআঁকির শখই আজ তাঁর রোজগারের মূল হাতিয়ার, আর সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
শখ থেকেই শুরু, আজ সফল উদ্যোগ
ছোটবেলা থেকেই রং ও তুলির প্রতি বিশেষ টান ছিল সুজাতার। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই আঁকাআঁকির চর্চা শুরু। সেই সাধারণ শখই ধীরে ধীরে রূপ নেয় পেশায়। মায়ের কাছ থেকে শেখা হাতের কাজই হয়ে ওঠে তাঁর প্রথম পুঁজি।
শাড়িতে ফুটে ওঠে শিল্পের ছোঁয়া
প্রথমে ছোটখাটো কাজ দিয়ে শুরু করলেও পরে শাড়িতে ফেব্রিক পেইন্টিং শুরু করেন তিনি। ফুল, পাতা, আলপনা থেকে আধুনিক ডিজাইন—প্রতিটি কাজে থাকে নিখুঁত শিল্পের ছাপ। সাধারণ শাড়িও তাঁর হাতে হয়ে ওঠে একেবারে বিশেষ।
গয়নাতেও সমান দক্ষতা
শুধু শাড়ি নয়, বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনার গয়নাও তৈরি করেন সুজাতা। তাঁর তৈরি গয়নার সূক্ষ্মতা ও নকশা এলাকার মহিলাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিয়ে বা উৎসবের মরসুমে বাড়ে চাহিদা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে পরিচিতি
স্থানীয় এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন তাঁর কাজ পৌঁছে যাচ্ছে আরও দূরে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের কাজ তুলে ধরছেন তিনি, ফলে বাড়ছে গ্রাহকসংখ্যাও। অনেকেই আগাম অর্ডার দিয়ে রাখছেন তাঁর তৈরি শাড়ি ও গয়না।
সংসার সামলে স্বনির্ভরতার লড়াই
রান্নাবান্না, সংসারের কাজ, সন্তানদের দেখাশোনা—সবকিছু সামলেও সময় বের করে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সুজাতা। তাঁর এই প্রচেষ্টা শুধু আয় বাড়ায়নি, পরিবারকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করেছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক সাধারণ গৃহবধূ নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই তৈরি করেছেন আয়ের নতুন রাস্তা। শাড়িতে ফেব্রিক পেইন্টিং ও ডিজাইনার গয়না বানিয়ে এখন তিনি বহু মহিলার অনুপ্রেরণা।











