হোম লোন নেওয়ার আগে মাথায় রাখুন এই ৫ ‘গোল্ডেন রুল’! না হলে EMI-এর চাপে নাজেহাল হতে পারেন আপনিও

হোম লোন নেওয়ার আগে কী কী বিষয় মাথায় রাখা জরুরি? EMI, সঞ্চয়, ইনস্যুরেন্স ও বাড়ির বাজেট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ জেনে নিন বাংলায়।

নিজের একটা বাড়ি— এই স্বপ্ন প্রায় সকলেরই থাকে। কিন্তু বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত শুধুই আবেগের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা। ভুল পরিকল্পনায় নেওয়া হোম লোন ভবিষ্যতে সংসারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কী সেই নিয়ম? জেনে নিন বিস্তারিত।

আয়ের তুলনায় বাড়ির দাম ঠিক করুন

অনেকেই ব্যাঙ্ক যত বেশি ঋণ দেয়, তত বড় বাজেটের বাড়ি কিনতে চান। কিন্তু আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির দাম কখনওই পরিবারের বার্ষিক হাতে পাওয়া আয়ের পাঁচ গুণের বেশি হওয়া উচিত নয়।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি পরিবারের বার্ষিক আয় ২৫ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে ১.২৫ কোটি টাকার বেশি দামের বাড়ি না নেওয়াই নিরাপদ। এর বেশি হলে EMI-এর চাপ সংসারের স্বাভাবিক খরচকেও প্রভাবিত করতে পারে।

EMI যেন মাসিক আয়ের ৩৫ শতাংশের বেশি না হয়

হোম লোন নেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল EMI পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক EMI কখনওই নেট আয়ের ৩৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।কারণ EMI বেশি হয়ে গেলে জরুরি খরচ, চিকিৎসা বা অন্যান্য আর্থিক সমস্যার সময় বিপাকে পড়তে হতে পারে। ফলে বাড়ি কেনার আনন্দের বদলে মানসিক চাপ বাড়তে শুরু করে।

বাড়ি কেনার আগে বড় অঙ্কের সঞ্চয় জরুরি

শুধু ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। বাড়ির মোট দামের অন্তত ৫০ শতাংশ সমপরিমাণ টাকা আগে থেকেই সঞ্চয়ে রাখা উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ টাকা ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকি ১৫ শতাংশ টাকা জরুরি তহবিল হিসেবে আলাদা রাখা দরকার। চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এই ফান্ড বড় সহায়তা করতে পারে।

ইনস্যুরেন্স ছাড়া হোম লোন নয়

হোম লোন নেওয়ার আগে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পর্যাপ্ত মেডিকেল ইনস্যুরেন্স এবং টার্ম লাইফ ইনস্যুরেন্স থাকা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৫০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং বাড়ির দামের সমপরিমাণ টার্ম ইনস্যুরেন্স থাকলে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা অনেকটাই সামলানো যায়। এতে পরিবারের উপর ঋণের অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

অন্তত ৫ বছর থাকার পরিকল্পনা থাকলেই কিনুন বাড়ি

যদি অল্প সময়ের মধ্যে চাকরি বা শহর বদলের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি কেনা উচিত নয়। কারণ বাড়ি কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রেজিস্ট্রি, ব্রোকারেজ, সুদ-সহ একাধিক খরচ।বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত পাঁচ বছর থাকার পরিকল্পনা থাকলে তবেই বাড়ি কেনা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। নাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই যায়।

নিয়ম মানতে না পারলে কী করবেন?

সব নিয়ম যদি এখনই মেনে চলা সম্ভব না হয়, তাহলে আপাতত ভাড়ার বাড়িতে থাকাই ভাল। পাশাপাশি নতুন দক্ষতা শেখা, আয় বাড়ানো এবং সঞ্চয়ের দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।এছাড়াও তুলনামূলক কম খরচের টিয়ার-২ শহরে বাড়ি কেনার পরিকল্পনাও ভবিষ্যতের জন্য লাভজনক হতে পারে।

নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক চাপে পড়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম লোন নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতের ঋণের বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব। EMI থেকে ইনস্যুরেন্স— সব বিষয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে জরুরি।

Leave a comment