ডায়াবেটিসে তালশাঁস খাওয়া কি নিরাপদ? গরমে রসাল এই ফল খেলেই বাড়বে সুগার? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

তালশাঁস বা আইস অ্যাপল কি ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন? গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, ফাইবার, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানুন বাংলায়।

প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা তালশাঁস যেন এক অন্যরকম স্বস্তি। বাজারে উঠলেই এই রসাল ফল কিনতে ভোলেন না অনেকেই। কিন্তু যাঁদের ব্লাড সুগারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে— তালশাঁস খেলে কি রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে? নাকি ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এই গ্রীষ্মকালীন ফল? পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পরিমাণে খেলে তালশাঁস বরং উপকারই করতে পারে।

কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, তাই আতঙ্কের কারণ নেই

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালশাঁসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ৪০। অর্থাৎ এই ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও সীমিত পরিমাণে এই ফল ডায়েটে রাখতে পারেন।এছাড়াও তালশাঁসে ফাইবারের পরিমাণ ভালো থাকায় হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়, ফলে সুগারের ওঠানামাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর তালশাঁস

তালশাঁসের সবচেয়ে বড় গুণ হল এর উচ্চ জলীয় অংশ। গরমে শরীর থেকে যে পরিমাণ জল বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে সাহায্য করে এই ফলপুষ্টিবিদদের মতে, তালশাঁস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি ক্লান্তি, মুখের বিস্বাদ ভাব ও বমিভাব কমাতেও কার্যকর।

ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এই ফল

তালশাঁসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ।এগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাড় মজবুত রাখা, ত্বকের যত্ন এবং চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও তালশাঁস উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে

যাঁরা ডায়েট করছেন বা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্যও তালশাঁস ভাল বিকল্প হতে পারে। কারণ এই ফলে ক্যালোরি কম এবং ক্ষতিকর ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে।এছাড়া ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

তবে খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা জরুরি

যদিও তালশাঁস স্বাস্থ্যকর, তবুও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে তালশাঁস খেলে গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা হতে পারে। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

গরমে স্বস্তি দেয় তালশাঁস বা আইস অ্যাপল। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা এই ফল খেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালশাঁসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় পরিমিত পরিমাণে এটি খাওয়া নিরাপদ। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে হাইড্রেশন বজায় রাখতেও সাহায্য করে এই ফল।

Leave a comment