‘বয়স’ বুঝে হাঁটুন, তবেই মিলবে ফিটনেসের আসল চাবিকাঠি! কোন বয়সে কত মিনিট হাঁটা জরুরি? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

২০ থেকে ৬০-এর বেশি বয়স—কোন বয়সে কত মিনিট হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে জেনে নিন বয়সভিত্তিক সঠিক ওয়াকিং রুল, ফিট থাকার সহজ উপায়।

ফিট থাকতে জিম নয়, শুধু নিয়মিত হাঁটাই যথেষ্ট—এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রতিদিন কতক্ষণ হাঁটবেন? অনেকেই ভাবেন দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে। তবে গবেষণা বলছে, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটার নিয়ম আলাদা। ভুলভাবে অতিরিক্ত হাঁটলে উপকারের বদলে শরীরে চাপও পড়তে পারে। তাই বয়সভিত্তিক সঠিক ‘ওয়াকিং রুল’ জেনে নেওয়া জরুরি।

বয়সভেদে হাঁটার আলাদা নিয়ম

শরীরের প্রয়োজন বয়সের সঙ্গে বদলায়। তরুণ বয়সে যেখানে দ্রুত হাঁটা উপকারী, সেখানে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ধীর গতির হাঁটাই নিরাপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার সময় নির্ধারণ করতে হবে শরীরের সহনশক্তি ও শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

২০ থেকে ৪০ বছর বয়সে কতটা হাঁটা জরুরি?

এই বয়সে শরীরের কর্মক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত হাঁটা আদর্শ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুরুতে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস তৈরি করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যেতে পারে।এই বয়সে ব্রিস্ক ওয়াকিং বা দ্রুত হাঁটা সবচেয়ে কার্যকর। এতে ক্যালোরি দ্রুত ঝরে এবং হৃদযন্ত্রও সুস্থ থাকে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে নিয়মিত হাঁটা।

১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে? ভাঙছে পুরনো ধারণা

অনেকের মধ্যেই বিশ্বাস রয়েছে, দিনে ১০ হাজার পা হাঁটলেই শরীর ফিট থাকে। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৭ হাজার থেকে ৭৫০০ পদক্ষেপই যথেষ্ট হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাঁটলে শরীরে ক্লান্তি ও জয়েন্টে চাপ বাড়তে পারে। তাই সংখ্যার পিছনে না ছুটে নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাঁটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩০-৪০ বছরে ইন্টারভাল ওয়াকিং কেন উপকারী?

এই বয়সে ইন্টারভাল ওয়াকিং দারুণ কার্যকর বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ কিছুক্ষণ দ্রুত হাঁটা, তারপর সামান্য বিরতি নিয়ে আবার হাঁটা।ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে শরীরের স্ট্যামিনা বাড়ে, মেটাবলিজম উন্নত হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা মানুষদের জন্যও এই হাঁটা অত্যন্ত উপকারী।

৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে হাঁটার সঠিক সময়

এই বয়সে শরীরে ধীরে ধীরে হাড় ও পেশির সমস্যা শুরু হতে পারে। তাই অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে দিনে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট।মাঝারি গতি বা হালকা দ্রুত গতিতে হাঁটা সবচেয়ে ভাল। তবে হাঁটু বা গোড়ালিতে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে হাঁটার সময় কমানো উচিত।

৬০ পেরোলেই ধীর গতিতে হাঁটা জরুরি

৬০ বছরের পর শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট।হাঁটার গতি ধীরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে হবে। নিয়মিত হাঁটলে রক্তসঞ্চালন ভাল থাকে, হাড় শক্তিশালী হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।

হাঁটার আগে ও পরে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?

হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতো পরা অত্যন্ত জরুরি। খালি পেটে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা উচিত নয়। গরমের দিনে পর্যাপ্ত জল পান করাও প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার আগে হালকা স্ট্রেচিং এবং হাঁটার পরে শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দিলে পেশিতে টান ধরার সম্ভাবনা কমে।

প্রতিদিন হাঁটা শরীরকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়। তবে সব বয়সের মানুষের জন্য হাঁটার সময় ও গতি এক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স অনুযায়ী সঠিক সময় ধরে হাঁটলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ, কমে হৃদরোগের ঝুঁকি এবং বাড়ে শরীরের কর্মক্ষমতা। ২০ বছর থেকে ৬০ পেরোনো বয়স—কোন বয়সে কতটা হাঁটা আদর্শ, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

Leave a comment