মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও বাড়ছে উত্তেজনা। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে তেলবাহী জাহাজগুলির চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বহু জাহাজ মাঝপথে ইউ-টার্ন নিচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ অবরোধ এখনও চালু রয়েছে, যার ফলেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তেহরান।
কঠোর নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালী
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণভাবে তাদের “কঠোর নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে। শুধুমাত্র অনুমোদিত জাহাজগুলিকেই এই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে টোলও দিতে হতে পারে।
মাঝপথে ঘুরছে তেলবাহী জাহাজ
সূত্রের খবর, প্রায় ৮৩ লক্ষ ব্যারেল তেল বহনকারী একাধিক ট্যাঙ্কার নিরাপত্তা ও অনুমতির অনিশ্চয়তার কারণে মাঝপথ থেকেই ফিরে যাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান আরও কড়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
বিশ্বের ২০% তেলের লাইফলাইন
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে জ্বালানির দামে।
পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা আবারও এই জলপথ বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা। ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তে মাঝপথে ঘুরছে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার। এতে বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।











