আলবেনিয়ায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ উপকূলীয় প্রকল্পের বিরুদ্ধে ১০০তম দিনের বিক্ষোভে সহিংসতা

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে ১০০তম দিনের বিক্ষোভে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ ১০০তম দিনে হিংসাত্মক রূপ নেয়। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আলবেনিয়ার সংসদ গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর পুনরায় অধিবেশনে বসার দিনই এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামে সজ্জিত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ডিম ও টমেটো ছোড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সংসদ ভবন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।

বিক্ষোভের সময় সংসদ ভবনে যাওয়া সাংসদদের গাড়িগুলিও বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয়। সাংসদদের বহনকারী গাড়িগুলিতে প্লাস্টিকের পানির বোতল ছোড়া হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং সাংসদদের গাড়িগুলিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পথ করে দেয়।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় কতজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তা স্পষ্ট ছিল না।

এই বিক্ষোভ ‘ফ্লেমিঙ্গো রেভলিউশন’ নামেও পরিচিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ফ্লেমিঙ্গো বা গোলাপি পাখির আকৃতির পোস্টার ও প্রতীক দেখা যায়। তাঁদের দাবি, প্রস্তাবিত উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই পাখি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই কারণেই ফ্লেমিঙ্গো আন্দোলনের প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিরানায় ধারাবাহিক বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা এই প্রতীক ব্যবহার করে পরিবেশগত উদ্বেগ তুলে ধরছেন। আগস্ট মাসেও আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ফ্লেমিঙ্গোর আকৃতির প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের।

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প, যেটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পটি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন।

আলবেনিয়ার কর্মকর্তারা প্রকল্পে কুশনারের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে দেননি। তবে ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প তাঁর পরিবারের এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি প্রকল্পটিকে একটি “incredible project” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রধান আপত্তি। তাঁদের দাবি, এত বড় আকারের উপকূলীয় উন্নয়ন এলাকার পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সমুদ্রসৈকতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে।

এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তিরানায় রাতের বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন প্রকল্পটির বিরোধিতা। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনটি শুধু প্রকল্পবিরোধী বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ থাকেনি এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আলবেনিয়ার সোশ্যালিস্ট সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

আলবেনিয়ায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ উপকূলীয় প্রকল্পের বিরুদ্ধে ১০০তম দিনের বিক্ষোভে সহিংসতা

আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী এডি রামাও বিক্ষোভকারীদের নিশানায় রয়েছেন। রামা এই বিনিয়োগ প্রকল্পের জোরালো সমর্থক। তাঁর যুক্তি, প্রকল্পটি আলবেনিয়াকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে।

আলবেনিয়া কয়েক দশক ধরে কমিউনিস্ট বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রামার মতে, এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব এবং জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ে তাঁদের উদ্বেগে অনড় রয়েছেন।

বিক্ষোভ এখন শুধু উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দেশের পরিবর্তন, যুবসমাজের সমস্যা এবং বাড়তে থাকা কঠিন পরিস্থিতিকেও প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বিক্ষোভকারী এলিডন মেহমেতাজ বলেন, যুবসমাজ সংগ্রাম করছে, জীবন কঠিন হয়ে উঠছে এবং সরকার তাঁদের কথা শুনছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা একটি উন্নত ভবিষ্যতের দাবি করছেন এবং তাঁদের বিশ্বাস, আলবেনিয়া আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা খুব বেশি কিছু দাবি করছেন না; তাঁরা আলবেনিয়ার নাগরিক, দেশ এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও ভালো পরিস্থিতি চান। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি আন্দোলনে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষও যুক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের বাইরে উত্তেজনার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা “Arrest Rama!” স্লোগান দেন। পুলিশ যখন সাংসদদের সংসদ ভবনে পৌঁছে দেওয়া এবং সেখান থেকে বের করে আনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামলাচ্ছিল, তখন এই স্লোগান দেওয়া হয়।

পুলিশের উপস্থিতি এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে ডিম ও টমেটো এবং সাংসদদের গাড়িতে পানির বোতল ছোড়ার পর সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়া জনতাকে থামাতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

১০০ দিন ধরে চলার পর আন্দোলনটি আলবেনিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বড় একটি উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা দিয়ে শুরু হলেও এখন এতে সরকারের নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসাধারণের জন্য সমুদ্রসৈকতে প্রবেশাধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর অসন্তোষও যুক্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এডি রামা যেখানে বিনিয়োগকে দেশের আধুনিকীকরণের সঙ্গে যুক্ত করছেন, সেখানে বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব এবং জনস্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আন্দোলনের ‘ফ্লেমিঙ্গো’ প্রতীক এই পরিবেশগত উদ্বেগকেই তুলে ধরে।

মঙ্গলবারের হিংসাত্মক সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভকারীদের হেফাজতে নেওয়ার পর আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পটি বন্ধ করা এবং সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখার দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকার বিনিয়োগ প্রকল্পটির সমর্থনে রয়েছে।

 

Leave a comment