ছুটি কাটাতে বা অফিসের কাজে হোটেলে থাকা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ঘরে ঢুকেই আমরা নিশ্চিন্তে টিভির রিমোট, লাইটের সুইচ বা দরজার হাতল স্পর্শ করি। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ জিনিসগুলিই হতে পারে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল? স্বাস্থ্যবিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেলের কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত সামগ্রীতে টয়লেট সিটের তুলনায়ও বেশি জীবাণু থাকতে পারে।

হোটেলের কোন জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশি নোংরা?
টিভির রিমোটে সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে
প্রতিদিন প্রায় প্রতিটি অতিথিই টিভির রিমোট ব্যবহার করেন। তবে প্রতিবার অতিথি বদলের পর এটি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয় না। ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সহজেই রয়ে যেতে পারে।
লাইট সুইচেও থাকে অজস্র ব্যাকটেরিয়া
রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই লাইট সুইচে হাত পড়ে। সারাদিন বহু মানুষের স্পর্শে এটি জীবাণুর অন্যতম বাহক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে নিয়মিত পরিষ্কার না হলে।
দরজার হাতলও ঝুঁকির তালিকায়
মূল দরজা, বাথরুমের দরজা কিংবা আলমারির হাতল—সবই দিনে বহুবার স্পর্শ করা হয়। তাই এসব জায়গায় সংক্রমণ ছড়ানো জীবাণু জমে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

কেটলি ও কফি মেকার ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
হোটেলের কেটলি বা কফি মেকার বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখালেও ভেতরের অংশ সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার নাও করা হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ধুয়ে নেওয়াই নিরাপদ।
সাজসজ্জার কুশন ও বেড রানারও নিরাপদ নয়
বিছানার সাদা চাদর সাধারণত প্রতিটি অতিথির পর বদলানো হলেও সাজসজ্জার কুশন ও বেড রানার সব সময় ধোয়া হয় না। লাগেজ, জামাকাপড় ও হাতের সংস্পর্শে এসে এগুলোতেও জীবাণু জমতে পারে।
বাথরুমের কাউন্টারটপেও থাকতে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি
টয়লেট পরিষ্কার করা হলেও বাথরুমের কাউন্টারটপে অতিথিরা প্রসাধনী, টুথব্রাশ, মেকআপ কিটসহ নানা ব্যক্তিগত জিনিস রাখেন। ফলে এই অংশও দ্রুত দূষিত হতে পারে।

হোটেলে থাকলে কী কী সতর্কতা নেবেন?
রুমে ঢোকার পর হাত স্যানিটাইজ করুন।
টিভির রিমোট, লাইট সুইচ ও দরজার হাতল জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে মুছে নিন।
অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাজসজ্জার কুশন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

হোটেলে উঠলেই অধিকাংশ মানুষ টয়লেটকে সবচেয়ে নোংরা জায়গা বলে মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেল কক্ষের এমন কয়েকটি জিনিস রয়েছে যেগুলো টয়লেট সিটের থেকেও বেশি জীবাণু বহন করতে পারে। ভ্রমণের সময় সুস্থ থাকতে এই জায়গাগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।








